kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

গ্রেপ্তার এড়াতে নারীর পলায়ন, পুকুরে মিলল মরদেহ

চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

১৪ আগস্ট, ২০২২ ১৩:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গ্রেপ্তার এড়াতে নারীর পলায়ন, পুকুরে মিলল মরদেহ

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের গ্রেপ্তারের হাত থেকে বাঁচতে ঘর থেকে পালিয়ে যাওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত নারী আসামির মরদেহ বাড়ির পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রবিবার (১৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার গল্লাই ইউনিয়নের গল্লাই পশ্চিমপাড়া গ্রামের খারকান দিঘির পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সেলিনা বেগম (৪০) ওই গ্রামের দিনমজুর নাছির উদ্দিনের স্ত্রী।  

জানা যায়, একই এলাকার এক ব্যক্তির সঙ্গে টাকা-পয়সা লেনদেনসংক্রান্ত একটি মামলায় বিজ্ঞ আদালত নাছির উদ্দিন, তার স্ত্রী সেলিনা বেগম ও মেয়ে তানজিনা আক্তারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

বিজ্ঞাপন

গত ১১ আগস্ট ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চান্দিনা থানায় এলে পুলিশ ১৩ আগস্ট রাতে তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে বাড়িতে যায়। এ সময় একই ঘরে থাকা নাছিরের স্ত্রী সেলিনা বেগম প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার কথা বলে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান। পুলিশ খোঁজাখুঁজি করে সেলিনা বেগমকে না পেয়ে নাছির উদ্দিন ও তার মেয়ে তানজিনাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।  

পরদিন (রবিবার) সকালে এলাকার লোকজন বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ওই নারীর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সেলিনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেয়।  

নাছির উদ্দিন বলেন, বরিবার রাত দেড়টার (গতকাল শনিবার দিবাগত রাত) দিকে পুলিশ আমার বাড়িতে গিয়ে আমাকে ডাক দিলে আমি দরজা খুলি। তখন পুলিশ জানায় আমাদেরকে থানায় আসতে হবে, আমাদের নামে নাকি ওয়ারেন্ট আছে।  এ সময় আমার স্ত্রী বাইরে যাবে বলে যায়। কিছুক্ষণ পর আর আমার স্ত্রীকে পাওয়া যায়নি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ চলে আসার পর মামলার বাদীপক্ষ আমার স্ত্রীকে হত্যা করে পানিতে ফেলে দিতে পারে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, পুলিশ গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি আটক করতে যায়। কিন্তু ওই নারী কৌশলে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে পাওয়া হয়নি। পরদিন সকালে ওই ঘটনা শুনে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ওই নারীর বসতঘরের পেছনে থাকা ওই পুকুরের পাড় অনেক উঁচু। গ্রেপ্তারের ভয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় পা পিছলে পুকুরে পড়ে যেতে পারেন। পুকুরের মধ্যে অনেক ঝোপঝাড় থাকায় উঠে আসাও সম্ভব হয়নি তার।  

তিনি আরো বলেন, খবর পেয়ে আমরা মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমেক হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এ ছাড়া ওই নারীর মৃত্যুর বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।   



সাতদিনের সেরা