kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

পরতা হচ্ছে না, তাই আমদানিতে ধীরগতি

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৪ আগস্ট, ২০২২ ০৩:১৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পরতা হচ্ছে না, তাই আমদানিতে ধীরগতি

সরবরাহ বাড়িয়ে দেশের বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ভারত থেকে বেসরকারি উদ্যোগে ১০ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এই চাল আমদানি করার কথা। কিন্তু ১১ আগস্ট পর্যন্ত ৪২ দিনে চাল এসেছে মাত্র ৩৪ হাজার মেট্রিক টন, যা মোট আমদানির মাত্র সাড়ে ৩ শতাংশ।

আমদানির এই ধীরগতির কারণ হিসেবে চাল ব্যবসায়ীরা দুটি কারণের কথা বলছেন।

বিজ্ঞাপন

প্রথমত, ভারতের বাজারে চালের রপ্তানিমূল্য বেড়ে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, দেশে ডলারের দামে অস্থিতিশীলতা। এতে বিদেশ থেকে চাল এনে দামে পরতা (কস্টিং) হচ্ছে না। তাই অনুমতি পেয়েও চাল আনার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না আমদানিকারকরা। এ ছাড়া শুল্ক শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা।

খাদ্য বিভাগ থেকে এক হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছেন চট্টগ্রামের চাল আমদানিকারক ওমর আজম। জুলাই মাসে অনুমতি নিয়ে এখনো চাল আনেননি। জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, চাল আমদানিতে ব্যাংকের মার্জিন দিতে হচ্ছে ৭৫ শতাংশ, অর্থাৎ এক লাখ টাকার ঋণপত্রে ৭৫ হাজার টাকা আমদানিকারককে নগদে দিতে হবে। এই টাকা জোগাড় করে চাল কিনতে গিয়ে দেখা গেল, ভারতে চালের দাম বাড়তি। তিনি বলেন, ‘ভারত থেকে সরু চাল আমদানিতে শুল্কসহ টনপ্রতি খরচ ৫৬০ ডলার। এখন আমি চালগুলো ট্রাকে করে হিলি দিয়ে আনব, কিন্তু সেই বন্দরে এই চাল খালাস করতে কমপক্ষে এক মাস লাগবে। এখন এই এক মাসে তো ডলারের দাম বেড়ে যাচ্ছে। ডলারের বাড়তি বিনিময়মূল্য চালের দামে যোগ করলে পরতা হচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে, এর চেয়ে দেশে চালের দাম কম। ’ 

নওগাঁর চাল আমদানিকারক মোতাহার হোসেন বলছেন, ‘ডলারের অস্থিতিশীলতা এখন সবচেয়ে ঝুঁকিতে ফেলেছে আমদানিকারকদের। ৯৪ টাকা ডলারের দর ধরে চাল কিনে দেশে আসার পর ব্যাংকে টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে দেখা গেল, ডলারের দর ১১৪ টাকা। এই বাড়তি ২০ টাকা চালের দামের সঙ্গে যোগ হয়ে দাম বেড়ে যাচ্ছে। এখন ওই দামে তো আমি চাল বিক্রি করতে পারছি না। ফলে এই বিশাল ঝুঁকি আমি জেনেশুনে কেন নেব?’

ওমর আজম বলছেন, ‘ভারতে মোটা চালের দাম কিন্তু টনপ্রতি ৩০০ ডলার। কিন্তু মোটা চালের দাম দেশে কম। ফলে সেই চাল আনার সুযোগ নেই। আর ভারতের বদলে মিয়ানমার থেকে আনতে পারতাম, কিন্তু সেখানে তো অস্থিরতা চলছে। ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড থেকে চাল আমদানিতে খরচ ভারতের চেয়েও বেশি। ফলে এই মুহূর্তে ভারত নির্ভরতা ছাড়া বিকল্প নেই। তবে সড়কপথের বদলে বন্দর দিয়ে জাহাজ আনা গেলে খরচ অনেক কম পড়বে। ’

আতপ ও সিদ্ধ—দুই ধরনের চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকারের খাদ্য বিভাগ। গত ৩০ জুন থেকে এই চাল আমদানির জন্য কিছু শর্ত বেঁধে দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে খাদ্য দপ্তর। সে হিসাবে ১ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্তু মোট ১০ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (বৈদেশিক সংগ্রহ) মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমদানির অনুমতি পাওয়া ব্যবসায়ীদের ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই চাল দেশে এনে বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। ফলে এখনো সময় আছে আমদানির। ’

ব্যবসায়ীরা ২৫ শতাংশ শুল্কহারও কমিয়ে একেবারে শূন্যে নামিয়ে আনার কথা বলছেন। পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম নিজাম উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, দুটি কাজ জরুরি ভিত্তিতে করতে হবে। একটি হচ্ছে মজুদদারির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা এবং ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ চাল দেশে আনা নিশ্চিত করা। এ জন্য শুল্ক দ্রুত কমিয়ে আনতে হবে।



সাতদিনের সেরা