kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৩০ সফর ১৪৪৪

‘সব কিছুর দাম বাড়ে শুধু আমাদের মজুরি বাড়ে না’

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

১৩ আগস্ট, ২০২২ ১৯:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘সব কিছুর দাম বাড়ে শুধু আমাদের মজুরি বাড়ে না’

মজুরি বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেছেন দেশের বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকরা। এরই ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ২২টি চা বাগানের শ্রমিকরাও আন্দোলনে নেমে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়।  

এদিকে মজুরি ৩০০ টাকা করার দাবিতে শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে একটি স্মারকলিপি জমা দেন কুলাউড়ার বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকরা।

বিজ্ঞাপন

 

শনিবার সকালে লুয়াইউনি চা বাগানের শ্রমিকরা মৌলভীবাজার-বড়লেখা আঞ্চলিক সড়কের ব্রাহ্মণবাজার এলাকায়, বরমচাল চা বাগানের শ্রমিকরা ব্রাহ্মণবাজার-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে, লংলা চা বাগানের শ্রমিকরা ব্রাহ্মণবাজার-শমসেরনগর সড়কের নয়াবাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার থেকে মজুরি ৩০০ টাকা করার দাবিতে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করে আসছিলেন শ্রমিকরা। তবে দাবি মেনে না নেওয়ায় গত শুক্রবার অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেয় চা শ্রমিক ইউনিয়ন।

কর্মসূচিতে আসা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি বিশ্বজিৎ কৈরী, নারী চা শ্রমিক সবিতা গড়াইত বলেন, আমাদের দুঃখ কেউ বোঝে না। আমরা চার দিন কর্মবিরতি করেছি। কিন্তু কেউ আমাদের এসে আশ্বাস দিল না। আমরা এত কষ্ট করে কাজ করি, কিন্তু আমাদের ন্যায্য মজুরি দেওয়া হয় না। চাল, ডাল, তেল সব কিছুর দাম বেড়েছে। ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচ আছে। অসুখ হলে চিকিৎসা করাতে হয়। এর মধ্যে প্রতিদিনই জিনিসের দাম বাড়ছে। কিন্তু আমাদের মজুরি বাড়ছে না।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুছ ছালেক বলেন, ‘কুলাউড়ার কিছু স্থানে সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে চা শ্রমিকদের বুঝিয়েছি। সেখানে তারা সড়ক অবরোধ না করেই তাদের কর্মসূচি পালন করছেন। ’ 

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল জানান, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট চলছে। দেশের ১৬৬ চা বাগানে এ ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। ৩০০ টাকা মজুরি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আন্দোলন কঠোর থেকে কঠোরতর হবে। দেশের বিভিন্ন বাগানের চা শ্রমিকরা একত্র হয়েছেন। বাগানে বাগানে সমাবেশ হবে।

বাংলাদেশি চা সংসদের সিলেট বিভাগের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী জানান, মালিকপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের আলোচনা চলাকালে এভাবে কাজ বন্ধ করে আন্দোলন করা বেআইনি। এখন চা বাগানে ভরা মৌসুম। কাজ বন্ধ রাখলে সবার ক্ষতি। তারাও এই মৌসুমে কাজ করে বাড়তি টাকা পায়।



সাতদিনের সেরা