kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সার-ডিজেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা কৃষক

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতনিধি   

১২ আগস্ট, ২০২২ ২১:১২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সার-ডিজেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা কৃষক

সার ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার প্রান্তিক কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। এ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। তারা জানান, সার ডিজেলের দাম বাড়ায় ফসলের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। ফলে ক্ষতির মুখে পড়বেন তারা।

বিজ্ঞাপন

উপজেলার কুড়িপাড়া, তালতলা, চকদিয়াবাড়ি, ধলাপাড়া, গালা, জামুরিয়া, চানতারা, দিগড়, নয়াপাড়া এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

ইউরিয়া সারের দাম কেজিতে ৬ টাকার বাড়ানোর রেশ কাটতে না কাটতেই ডিজেলের মূল্য লিটার প্রতি ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৪ টাকা হয়েছে। ফলে কৃষক উৎপাদন খরচ বাড়ার বোঝা মাথায় নিয়েই জমিতে রোপা আমন চাষাবাদ করা হচ্ছে। রোরো আবাদের চেয়ে রোপা আমন চাষে কৃষকের খরচ কম হলেও বর্ষার ভরা মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়া এবং সার-ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধিতে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ঘাটাইল উপজেলায় ১৭ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের তালতলা গ্রামের কৃষক আলা উদ্দিন বলেন, 'এভাবে সার ডিজেলসহ জিনিসপত্রের দাম বাড়লে কৃষক কেমনে বাঁচব, আবাদ না করলেও তো পেটে ভাত যাব না। তয় এ অবস্থা চলতে থাকলে আবাদই ছাইড়া দেওন লাগব। '

চকদিয়াবাড়ি গ্রামের কৃষক মেহের আলী বলেন, এক বিঘা জমি চাষে মোট খরচ হবে নয় হাজার টাকা। ধান পাওয়া যাবে এর থেকে কম। সেই হিসেবে উৎপাদন খরচই উঠবে না।

খুচরা সার ব্যবসায়ী কোরবান আলী বলেন, ইউরিয়া সারের দাম প্রতি বস্তায় তিন শ টাকা বেড়েছে। কোনো ঘোষণা ছাড়াই এর সাথে ডিএপি, পটাশ ও এমওপি সারের দাম বস্তাপ্রতি দু তিন শ টাকা বেড়ে গেছে।

উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের দুলাল গ্রামের মোস্তফা কামাল বলেন, সার ও তেলের দাম বাড়ায় মানুষ এখন চাষাবাদ ছেড়ে দিচ্ছে। একদিকে ফলন উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে অন্যদিকে কৃষক তার ফসলের ন্যয্য দাম পাচ্ছে না। কৃষককে বাঁচিয়ে রাখতে হলে ধানসহ উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চত করতে হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, সার ও ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে কৃষকের চাষাবাদে উৎপাদন খরচও বেড়ে যাবে। কৃষি কৃষকের রক্তের সাথে মিশে গেছে। শত প্রতিকূলতার মাঝেও তারা চাষাবাদ করবে।  তবে কৃষক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে সরকারের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে।



সাতদিনের সেরা