kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

গয়না হাতিয়ে নিয়েছেন শাশুড়ি, নির্যাতনের কারণে গৃহবধূর আত্মত্যা

সাভার প্রতিনিধি   

১২ আগস্ট, ২০২২ ১৮:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গয়না হাতিয়ে নিয়েছেন শাশুড়ি, নির্যাতনের কারণে গৃহবধূর আত্মত্যা

মৃত গৃহবধূ সামিয়া আক্তার। ছবি- কালের কণ্ঠ।

পারিবারিক কলহের জের ধরে সাভার পৌর এলাকায় সামিয়া আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূর আত্মহননের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় স্বামী সাদমান সাকিব হৃদয়কে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) রাতে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে সামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

এর পরই নিহতের স্বামী হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়।  আজ শুক্রবার দুপুরে সাভার মডেল থানা থেকে ‍হৃদয়কে আদালতে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃত সাদনাম সাকিব হৃদয় সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকার জাকারিয়া হোসেনের ছেলে। তিনি গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মকর্তা। নিহত সামিয়া আক্তার মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর থানার মিজানুর রহমানের মেয়ে।

এ ঘটনায় সামিয়ার বাবা মিজানুর রহমান বাদী হয়ে স্বামী হৃদয়, শ্বশুর জাকারিয়া হোসেন ও শাশুড়ি জায়েদা পারভিনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে  মামলা দায়ের করেছেন।

নিহতের মামা আশিকুর রহমান বলেন, 'পাঁচ বছর হলো পারিবারিকভাবে সামিয়াকে বিয়ে করে হৃদয়। বিয়ের সময় সামিয়ার বাবা ও মামারা মিলে ২৫ ভরি স্বর্ণের গয়না, মোটরসাইকেল ও তিন লাখ টাকার ফার্নিচার উপঢৌকন হিসেবে দেন। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পরই কৌশলে সামিয়ার গয়না হাতিয়ে নেন শাশুড়ি জায়েদা পারভিন। মাঝেমধ্যেই এই গয়না নিয়ে শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হতো সামিয়ার। '

তিনি আরো বলেন, 'এসব নিয়ে কথা বললেই সামিয়াকে নির্যাতন করা হতো। বৃহস্পতিবারও এই গয়না নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর বিকেল ৩টার দিকে সামিয়া ফোন করে আমাদের জানায়, তাকে মারধর করেছে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি। এর কিছু সময় পরেই সামিয়ার স্বামী আমাদের ফোনে জানায়, সামিয়া স্ট্রোক করেছে। পরে এনাম মেডিক্যালে গিয়ে আমরা সামিয়ার মরদেহ দেখতে পাই। ' তিনি অভিযোগ করেন, 'সামিয়াকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে তারা। '

পুলিশ জানায়, 'গত রাতে সাভার ব্যাংক কলোনিতে সামিয়ার শ্বশুরবাড়িতে সামিয়া গলায় ফাঁস নেন। পরে তাকে উদ্ধার করে এনাম মেডেক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে এমন ঘটনা ঘটেছে। '

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সাভার মডেল থানার এসআই জাহিদুল ইসলাম বলেন, 'প্রাথমিকভাবে জেনেছি, বাসায় ঝগড়া করার একপর্যায়ে সামিয়া তার কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। দরজা ধাক্কানোর পর না খুললে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সামিয়াকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তার স্বামী। পরে তিনি তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আমরা মরদেহ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করেছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পাওয়া যাবে। '



সাতদিনের সেরা