kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৩০ সফর ১৪৪৪

খোয়া গুঁড়া হওয়ার ভয়ে রোলার কম করেন ঠিকাদার!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি,ময়মনসিংহ   

১২ আগস্ট, ২০২২ ১৭:৪৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



খোয়া গুঁড়া হওয়ার ভয়ে রোলার কম করেন ঠিকাদার!

‘হায় রে কাম, কী অইবো এইবায় সড়ক কইর‌্যা। কয়দিন পরে তো গাতাগুতাই অইবো। সড়কে যা দিতাছে তা মনে অয় এইডা ইডের সুরহি (ইটের খোয়া) না চুলার ভিতরের পুড়া মাডি। ’

ময়মনসিংহের নান্দাইল সদর থেকে স্থানীয় দেওয়ানগঞ্জ বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার সড়কের প্রায় তেরো কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজের অর্ধেক অংশের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

 সড়কে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করায় তা দৃশ্যমান হওয়ায় স্থানীয় রমজান আলী শুক্রবার (১২ আগস্ট) সকালে সড়কটি দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ক্ষোভে এ কথাগুলো বলেন। রোলারের চাপায় এসব খোয়া গুঁড়া হয়ে হলদেটে ধুলায় পরিণত হচ্ছে। এতে সড়কের নির্মাণকাজ মানসম্মত হচ্ছে না বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।

নান্দাইল উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল কার্যালয় সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, পিকেট (শক্ত ইট) ভেঙে তৈরি করা খোয়া সড়কে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিন্তু নান্দাইল-দেওয়ানগঞ্জ সড়কের কিছু কিছু অংশে নরম ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। সমান করার জন্য রোলিং করার পর তা ভেঙে গুঁড়া হয়ে যাচ্ছে। তাই কৌশল খাটিয়ে কম রোলিং করা হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে নান্দাইল ডায়াবেটিক হাসপাতালের সামনে থেকে চানপুর পর্যন্ত গিয়ে দেখা যায়, সড়কের ওপর যে মানের খোয়া বিছানো হয়েছে তা খুবই নিম্নমানের।

এ ধরনের খোয়া ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারের কাউকে সড়কে পাওয়া যায়নি। সড়কে কর্মরত রোলারচালক বলেন, ভালো কইর‌্যা মিশানোর লাইগ্যা এই রকম খোয়াই দেওয়া হয়। যাতে আঠা আঠা হয়। নয়তো পিচ ঢালাই (কার্পেটিং) করার সময় সড়কের উপরিভাগ সমান হবে না।

নিম্নমানের কাজ হচ্ছে খবর পেয়ে শুক্রবার ওই সড়কে যান নান্দাইল উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল (এলজিইডি) অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো. শাহাবো রহমান। তিনি বলেন, নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের সত্যতা পেয়ে সাইড থেকে ওই খোয়া সরানোর জন্য সঙ্গে সঙ্গে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  এ ছাড়া তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন বলে জানান।



সাতদিনের সেরা