kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

নিম্নচাপের এক জোয়ারেই বদলে গেছে কক্সবাজার সৈকত

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

১১ আগস্ট, ২০২২ ২৩:৩৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিম্নচাপের এক জোয়ারেই বদলে গেছে কক্সবাজার সৈকত

নিন্মচাপের এক জোয়ারেই বদলে গেছে কক্সবাজার সৈকত। ছবি- কালের কণ্ঠ।

সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে উচ্চ জোয়ারের পানির থাবায় কক্সবাজার সৈকত লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। জোয়ারের পানির তীব্র স্রোতে সৈকতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। আকস্মিক ভাঙনের ফলে বদলে গেছে সৈকতের চেহারা। পানির স্রোতে বিভিন্ন স্থানের বালু সরে গেছে এবং সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত।

বিজ্ঞাপন

সৈকতের লাবনী পয়েন্টের পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত সৈকত স্নানের জায়গাটিও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) সকালে জোয়ারের পানির স্রোতে সৈকতের বালুচর তছনছ হয়ে যাওয়ায় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ে লাবনী পয়েন্ট এলাকাটি।

অপরদিকে নিম্নচাপের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তে সৈকতে ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন করায় মড়ার ওপর খাঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৈকতের বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও আকস্মিক বৃহস্পতিবার  সকাল থেকে ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন কাজ শুরু করে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড। উত্তোলিত বালু জিও ট্যাক্সের ব্যাগে ভরে জোয়ারের পানি ঠেকাতে গিয়েই বুমেরাং হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বালু উত্তোলনের ফলে জোয়ারের পানির তীব্রতায় ভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

কক্সবাজার সৈকতের বদলে যাওয়া চিত্র। ছবি : কালের কণ্ঠ

আজ বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কক্সবাজার সৈকতের লাবনী পয়েন্ট এলাকাটি ভিন্নরূপ ধারণ করেছে। দুইদিন আগের সৈকতের সঙ্গে বর্তমান চিত্রের কোনো সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ড্রেজার মেশিন বসানোর স্থানটিতে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল গর্ত। পর্যটকদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থানটিই হয়ে গেছে বিপদজনক। সৈকতের পানি ছোঁয়া এলাকায় স্থাপিত ট্যুরিস্ট পুলিশের হেল্প ডেস্কটি ভাঙনের কবল থেকে সরিয়ে আনতে হয়েছে। ড্রেজারে বালু উত্তোলন করায় জোয়ারের পানির স্রোতে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যে, বৃহস্পতিবার থেকে লাবনী পয়েন্টের সৈকত এলাকাটি পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে।

সাগরতীরের পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, ‘সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে পানি এত উচুঁতে আঘাত হানবে তা কেউ টের পাননি। ’

সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সুপারভাইজার মাহবুব আলম জানান, ‘আমি গত ২০ বছর ধরে সৈকতে কাজ করছি কিন্তু এরকম জোয়ারের পানির স্রোত আর দেখিনি। জোয়ারের পানি সবচেয়ে ক্ষতির কারণ হয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বালু উত্তোলনের কারণে। ’

তিনি আরো বলেন, 'সৈকতের এমন চেহারা দেখলে এখানে আর পর্যটকরা ভ্রমণে আসবে না। ’ মাহবুব আলম জানান, ‘জোয়ারের সময় বাতাসের তীব্রতা বেশি থাকায় পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৪/৫ ফিট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। '

সৈকত ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সুফিয়ান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সামুদ্রিক জোয়ারের পানিতে বালুচরের এত ক্ষতি হত না যদি পানি উন্নয়ন বোর্ড ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন না করত। এমন কি পানি উন্নয়ন বোর্ড এমন সময়ে তাদের জিও ব্যাগের কাজটি না করে আবহাওয়ার দুর্যোগ কেটে গেলে করতে পারত। ’

পরিবেশবাদী সংগঠন কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, ‘এত কাল কক্সবাজার সৈকত এলাকাটি ছিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিদর্শন।  বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ড এখানে প্রতিরক্ষার নামে সৌন্দর্যহানির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ’

তিনি আরো জানান, ‘এত দিন সৈকতের লাবনী পয়েন্ট এলাকায় কোনো ভাঙন দেখা যায়নি। কিন্তু পাউবো জিও ব্যাগের কাজ শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই ভাঙনও শুরু হয়েছে। ’

এসব বিষয় নিয়ে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. তানজীর সাইফ আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে সৈকত তীরে জিও ট্যাক্সের মাধ্যমে পাউবোর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। আমি সেই কাজের ধারাবাহিকতায় জরুরি কাজ করতে গিয়েছি। ’

সৈকতের বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ থাকার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগেও এ রকম করা হয়েছে। ’ তিনি আরো জানান, ‘পাউবোর জরুরি কাজের অংশ হিসাবে ৩০ লাখ টাকায় সৈকতের লাবনী পয়েন্টে জিও ব্যাগের কাজ করা হচ্ছে। ’ 

আবহাওয়ার এমন দুর্যোগপূর্ণ সময়ে জরুরি কাজ করার কারণ জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী কোন জবাব দেননি।



সাতদিনের সেরা