kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ অক্টোবর ২০২২ । ১৯ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

মঠবাড়িয়ায় স্বামীর সঙ্গে ভাবির

অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় গৃহবধূকে বালিশচাপায় হত্যা

অভিযুক্ত স্বামী ও ভাবি গ্রেপ্তার

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর   

৯ আগস্ট, ২০২২ ২০:৩৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় গৃহবধূকে বালিশচাপায় হত্যা

গ্রেপ্তার হলেন সিরাজুস সালেকীন ও স্কুল শিক্ষিকা আয়শা খানম।

স্বামীর সঙ্গে আপন বড় ভাইয়ের স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় স্বামী ও তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী মিলে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে শাম্মি আক্তার (৪০) নামের এক গৃহবধূকে। ঘটনাটি ঘটেছে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায়।

সোমবার দুপুরে পুলিশ মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শাম্মি আক্তারের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল পাঠায়। শাম্মি আক্তারের মৃত্যু অস্বাভাবিক বলে সন্দেহ হলে পুলিশ তার স্বামী শেখ সিরাজুস সালেকীন (৩৩) ও আপন ভাবি শিক্ষিকা আয়শা খানমকে (৫০) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের কাছে তারা হত্যার দায় স্বীকার করেছে।   

এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর ছেলে সাইম আলম (১৭) বাদী হয়ে আজ মঙ্গলবার সকালে মঠবাড়িয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলায় মায়ের দ্বিতীয় স্বামী শেখ সিরাজুস সালেকীন (৩৩) ও আপন মামি শিক্ষিকা আয়শা খানমকে (৫০) পুলিশ গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে।

গ্রেপ্তারকৃত শেখ সিরাজুস সালেকীন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার দরবেশপুর গ্রামের শেখ মোহম্মদ আলীর ছেলে এবং আয়শা খানম মঠবাড়িয়া শহরের কে এম লতীফ ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র শিক্ষিকা ও পার্শ্ববর্তী শরণখোলা উপজেলার রাজাপুর গ্রামের এমাদুল হকের স্ত্রী।

মামলা সূত্রে জানা গেছে , শাম্মি ও সালেকিনের বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে সালেকিন এক দিন আগে ঢাকা থেকে মঠবাড়িয়ায় আসেন। বিবাহবার্ষিকী অনুষ্ঠানের জন্য রবিবার রাতে স্বামী সালেকিন ও ভাবি আয়শা খানম তাদের থানাপাড়ার ভাড়াটিয়া বাসায় অবস্থান করছিলেন। রাতের খাবার শেষে শাম্মি স্বামীকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। পাশের আলাদা কক্ষে ভাবি আয়শা খানম ঘুমান। রাত তিনটার দিকে শাম্মি ঘুম থেকে জেগে স্বামীকে বিছানায় না পেয়ে কক্ষ থেকে বের হয়ে ভাবির কক্ষে ঢুকে দুজনকে অনৈতিক কাজে লিপ্ত অবস্থায় দেখতে পায়। এ নিয়ে  তাদের মধ্যে ঝগড়া বেধে যায়। একপর্যায়ে স্বামী সালেকীন ও ভাবি আয়শা মিলে শাম্মীর মুখমণ্ডলে বালিশ চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে।

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মুহম্মদ নূরুল ইসলাম বাদল সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার পরপরই সিরাজুস সালেকীন ও আয়শা খানমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে হত্যা মামলা দায়েরের পর তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়।



সাতদিনের সেরা