kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

আধিপত্য বিস্তার করতে সংঘর্ষ, প্রাণ গেল যুবকের

শরীয়তপুর প্রতিনিধি   

৯ আগস্ট, ২০২২ ২০:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আধিপত্য বিস্তার করতে সংঘর্ষ, প্রাণ গেল যুবকের

শরীয়তপুরের চিকন্দিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ওয়াহেদুজ্জামান খান (৩২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত আরো ১১ জন। মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) দুপুরে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ওয়াহেদুজ্জামান আবুড়া গ্ৰামের মৃত রমিজ খানের ছেলে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চিকন্দি ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আলমাছ খান ও সাবেক ইউপি সদস্য তমিজ খানের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। তারা দুজনই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।  

আলমাছ খানের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে চিকন্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আকতার খান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বাচ্চু সরদারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত তমিজ খান।  মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে আবুড়া গ্ৰামে তমিজ খানের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায় আলমাছ খানের সমর্থকরা। উভয় পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।  

এ সময় ১৫ থেকে ২০টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায় হামলাকারীরা। সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্র ও হাতবোমার আঘাতে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওয়াহেদুজ্জামান খান মারা যান। নিহত ওয়াহেদুজ্জামানের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। গুরুতর আহত চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।  

এদিকে ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

নিহতের ভাই নুরুজ্জামান খান বলেন, 'আকতার খাঁ, ফরহাদ খাঁ ও আলমাছ খাঁ দলবল নিয়া আমার ভাইকে কোপাইয়া মাইরা হালাইছে। এর আগে ওরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিরেও মানুষের সামনে অপমান-অপদস্ত করছে। বহুদিন ধইরাই আমাগো হুমকি দিত। বুঝি নাই এমনে ভাইডারে হারাইমু। এই হত্যাকারীদের ফাঁসি দেইখা যাতে আমি মরতে পারি। ' 

এ বিষয়ে আলমাছ খান ও তমিজ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সমর্থকদের সংঘর্ষে, আহতদের মধ্যে ওয়াহেদুজ্জামান খান নামে এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উভয় পক্ষই মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।



সাতদিনের সেরা