kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

বিলাসবহুল পণ্য আমদানিতে কড়াকড়ি, ফাঁকা থাকছে বন্দরের জেটি

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৯ আগস্ট, ২০২২ ১৪:৩২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিলাসবহুল পণ্য আমদানিতে কড়াকড়ি, ফাঁকা থাকছে বন্দরের জেটি

চট্টগ্রাম বন্দরের একটি কনটেইনার, আরেকটি খোলা পণ্যের জেটি এখন প্রতিদিনই ফাঁকা থাকছে। অথচ জুলাই মাসেও এ অবস্থা ছিল না বন্দরে। জুলাই মাসে একটি কনটেইনার জাহাজ তিন দিন বহির্নোঙরে সাগরে অপেক্ষার পর জেটিতে আসার সুযোগ পেত। আর খোলা পণ্যের জাহাজকে জেটিতে ভিড়তে অপেক্ষায় থাকতে হতো ১০-১৫ দিন।

বিজ্ঞাপন

চলমান আগস্ট মাসের শুরু থেকে জাহাজজটের সেই চিত্র পাল্টেছে। আগস্টে বহির্নোঙরে এসেই একটি কনটেইনার জাহাজ সরাসরি জেটিতে বা অন অ্যারাইভাল বার্থিং সুযোগ পাচ্ছে। খোলা পণ্যের জাহাজের ক্ষেত্রেও তাই।

বিলাসবহুল ও অপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে সরকারের কড়াকড়ির কারণে আমদানি কিছুটা কমেছে। সেই সঙ্গে গত মাসে বেশ কিছু আধুনিক যন্ত্রপাতি যোগ করে চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য ওঠানো-নামানোর সক্ষমতা বাড়ায় জাহাজগুলো দ্রুত জেটি ছাড়ছে। ৭২ ঘণ্টার একটি জাহাজ ৪৮ ঘণ্টায় পণ্য নামিয়ে বন্দর জেটি ছেড়ে যাচ্ছে। এর সুফল পাচ্ছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগস্টের শুরু থেকেই আমরা কনটেইনার জাহাজকে অন অ্যারাইভাল বার্থিং দিচ্ছি। এর মূল কারণ এনসিটিতে গত মাসে চারটি নতুন কি-গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং ১০টি আরটিজি যুক্ত করে পণ্য ওঠানো-নামানো শুরু করেছি। এতে করে এনসিটি ও সিসিটির শতভাগ জাহাজই ৪৮ ঘণ্টায় বন্দর জেটি ছেড়েছে। আগে এখানে ৭২ ঘণ্টায় পণ্য ওঠানো-নামানো শেষ করতে হতো। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হওয়ায় আরেকটি জাহাজকে আমরা ভেড়াচ্ছি। বর্তমানে বহির্নোঙরে জেটিতে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা কোনো জাহাজ নেই।    ফলে জাহাজ না পেয়ে বন্দরের একটি কনটেইনার জেটি এবং একটি খোলা পণ্যের জেটি ফাঁকা থাকছে। সেই জেটিতে এখন আমরা ড্রেজিং করে পরবর্তী জাহাজের জন্য প্রস্তুত রাখছি। ’

জাহাজের মেইন লাইন অপারেটরদের হিসাবে জুলাই মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এক লাখ ১৪ হাজার একক আমদানি পণ্যের কনটেইনার এসেছে। জুন মাসের আমদানি ছিল এক লাখ ২৯ হাজার একক। মে মাসে ছিল এক লাখ ২৭ হাজার একক কনটেইনার। সে হিসেবে আমদানি কিছুটা কমেছে। অবশ্য আগের অর্থবছরের তুলনায় আমদানি বেড়েছে। আর চলতি আগস্ট মাসের চিত্র পাওয়া যাবে সেপ্টেম্বরের শুরুতে।

রপ্তানির ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। ২০২১ সালের জুলাই মাসে রপ্তানি ছিল ৪২ হাজার একক। আর ২০২২ সালের জুলাইয়ে ছিল একই। জুন মাসে ছিল ৭৪ হাজার একক এবং মে মাসে ৬৫ হাজার একক।

শিপিং কম্পানি ক্রাউন নেভিগেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহেদ সারোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমি সিঙ্গাপুরে দেখেছি আমদানি পণ্যের, বিশেষ করে অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী পণ্যের বুকিং কমেছে। বাংলাদেশে এর প্রভাব চোখে পড়বে আগামী মাসে। আর আগস্টে খুব বেশি আমদানি কমেছে এটা বলা যাবে না। ’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ আহসানুল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, ‘জুলাই মাসে আমদানির ঋণপত্র খোলা ৩১ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে আমাদের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে ২৫ শতাংশ। ফলে ৬ শতাংশ আমদানি আমরা অপ্রয়োজনীয় বা বিলাসী বলে মনে করছি। অর্থনীতির এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে এই আমদানি কমিয়ে আনাও অনেক সুফল দেবে। রিজার্ভের ওপর চাপ কমানোর জন্য এটি সাময়িক সুফল বয়ে আনবে। ’ তিনি জানান, আমদানি কমার এই চিত্র বোঝা যাবে আরো কয়েক মাস পর।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রতিটি পণ্যভর্তি কনটেইনার জাহাজ জেটিতে ভেড়ার আগে পৌনে তিন দিন বহির্নোঙরে থাকতে হয়েছে। মূলত জাহাজে আসা-যাওয়ার তুলনায় বন্দরে জেটির সংখ্যা কম থাকায় এই বাড়তি সময় থাকতে হতো। আর খোলা পণ্যের জাহাজের তুলনায় জেটির সংখ্যা অনেক কম থাকায় সেখানে অপেক্ষা করতে হতো চার দিনের বেশি। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম জুলাই মাসেও একই অবস্থা ছিল। অর্থাৎ দিনে গড়ে ১০-১৫ হাজার মার্কিন ডলারের সাশ্রয় হয়েছে। আর বিশ্বের শিপিং বাণিজ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি বেড়েছে।

বিদেশি এক শিপিং লাইনের এক কর্মকর্তা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর যদি বড় জাহাজ ভিড়তে মৌখিক কড়াকড়ি আরোপ না করত তাহলে এই মাসেও আমদানির পরিমাণ বাড়ত। কড়াকড়ির কারণে কম ভাড়ায় বড় জাহাজ পাওয়া দুষ্কর হয়েছে। ফলে অনেকেই জাহাজ আনা কমিয়েছেন।

জাহাজ পরিচালনাকারীরা বলছেন, একটি কনটেইনার জাহাজ বহির্নোঙরে পণ্য নিয়ে আসার পর জেটির অপেক্ষায় অলস বসে থাকলে দিনে গড়ে ১০-১৫ হাজার মার্কিন ডলার বাড়তি মাসুল জাহাজ ভাড়া হিসেবে গুনতে হয়। এই বিপুল টাকা পণ্যের দামের সঙ্গে যোগ হয়। এটি বইতে হয় ভোক্তাকেই। আগস্টে আসা জাহাজগুলোয় এই ক্ষতি হয়নি।



সাতদিনের সেরা