kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

চাঁদপুরে পালিয়ে আসা মাদরাসার তিন ছাত্রকে ফিরিয়ে নিল অভিভাবকরা

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

৮ আগস্ট, ২০২২ ২৩:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাঁদপুরে পালিয়ে আসা মাদরাসার তিন ছাত্রকে ফিরিয়ে নিল অভিভাবকরা

পড়াশোনা করতে মন বসে না। তাই কৈশরের দূরন্তপনায় মাদরাসা থেকে পালাল তিন বন্ধু। কিন্তু দুই দিন পালিয়ে থাকার পরও ওদের শেষ রক্ষা হলো না। রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে চাঁদপুর যাওয়া এই তিন মাদরাসা ছাত্র পুলিশের হাত ঘুরে এখন ফিরে গেল অভিভাবকের কাছে।

বিজ্ঞাপন

মাদরাসায় পড়ুয়া এই তিনজনের মধ্যে মোহাম্মদ উল্লাহ‘র বাড়ি রাজধানীর ফরিদাবাদে, মোহাম্মদ জুবায়েরের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ি এবং মোহাম্মদ ইয়ামিনের বাড়ি বরিশাল সদরে। এদিকে, সোমবার সকালে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয় এই তিনজনকে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানিয়েছেন, তিনজনই রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জের আগানগর এলাকার রওজাতুল উলুম কওমি মাদরাসার ছাত্র। দীর্ঘদিন পড়াশোনা করছে এই মাদরাসায়। কিন্তু মাদরাসায় বেশিদিন থেকে আর পড়াশোনায় মন টিকছে না। তাই কৈশরের দূরন্তপনায় সিদ্ধান্ত নিল একসঙ্গে তিন বন্ধু পালিয়ে যাবে। দূরে কোথাও গিয়ে খুঁজে নেবে কাজ।  

গত শনিবার ভোরে অন্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদরাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে তারা। তারপর সদরঘাটে পৌঁছে চাঁদপুরগামী যাত্রীবাহী লঞ্চে উঠে পড়ে। পুরো দুইটি দিন এখানে কাটায় এই তিন মাদরাসা ছাত্র। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। শহরের কোর্টস্টেশন এলাকায় প্রথমে স্থানীয়দের পরে টহল পুলিশের চোখে ধরা পড়ে। এরপর রাতভর পুলিশি হেফাজতে।

বরিশালের ছেলে মোহাম্মদ ইয়ামিন (১৬) স্বীকার করেছে, পড়াশোনায় মন বসছিল না। তাই অন্য দুজনের সঙ্গে পরামর্শ করে কাজের সন্ধানে চাঁদপুরে যায় তারা। তবে অন্য দুজনের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, মাদরাসার বডিংয়ে খাবারের মান তেমন ভালো না। প্রতিদিন একই ধরনের খাবার তাদের দেওয়া হতো। তাই সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আব্দুল কাইযুম নামে একজন অভিভাবক জানান, মূলত কৈশরের দূরন্তপনার কারণে তিনজন একত্রিত হয়ে মাদরাসা ছাড়ে তারা। এদিকে, সন্তানদের উদ্ধারে চাঁদপুরে আসা অভিভাবকরা জানেন না কী কারণে এমন কাণ্ড করেছে ওরা।  

অন্যদিকে, পড়াশোনায় মন বসে না। তাই কাজের সন্ধানে মাদরাসা থেকে পালানোর এমন সিদ্ধান্ত। এমন কথা স্বীকার করেছে পুলিশের কাছে। চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ জানান, গত রবিবার রাতে শহরের কোর্ট স্টেশনে ঘোরাঘুরি করছিল এই তিন মাদরাসা ছাত্র। দৃশ্যটি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী শওকত আলীর চোখে ধরা পড়ে। তারপর তাদের ডেকে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলায় তার সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় এই তিনজনকে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরো জানান, ওদের সঙ্গে কথা বলে অভিভাবকদের মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করা হয়। পরে এই তিনজনের অভিভাবককে চাঁদপুরে ডেকে এনে তাদের কাছে তুলে দেওয়া হয়।



সাতদিনের সেরা