kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

কক্সবাজারের কটেজে ‘টর্চার সেল’! চলত সব অপকর্ম

উদ্ধার ৪, আটক ১১

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

৮ আগস্ট, ২০২২ ১৯:৫১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কক্সবাজারের কটেজে ‘টর্চার সেল’! চলত সব অপকর্ম

আটক ১১ জন।

কক্সবাজারে সাগরপারের শিউলী রিসোর্ট নামের একটি কটেজের ‘টর্চার সেল’ থেকে চারজনকে উদ্ধার করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। এ সময় পুলিশ পর্যটক শিকারি হিসেবে পরিচিত সংঘবদ্ধ একটি দালালচক্রের ১১ জনকে আটক করে।  

অভিযোগ রয়েছে, আটক হওয়া দালালরা সমুদ্রসৈকত এলাকা থেকে পর্যটকসহ বিভিন্ন শ্রেণির লোকজনকে কৌশলে কটেজে এনে আটকে রাখত। শিউলী রিসোর্ট নামের ওই কটেজটি ভাড়া নিয়ে চক্রটি ইয়াবা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাত।

বিজ্ঞাপন

অভিযানে বিভিন্ন যৌন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, অপহরণের পর ওই কটেজে নিয়ে ইয়াবার আসর ও নারীদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি ধারণ করা হতো। সেই ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আদায় করা হতো মোটা অঙ্কের টাকা। কটেজের একটি কক্ষে সংঘবদ্ধ চক্রটি ‘টর্চার সেল’ হিসেবে ব্যবহার করত। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না পেলে সেই টর্চার সেলেই নির্যাতন করা হতো অপহৃতদের। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয় বলে জানায় পুলিশ।

জিম্মিদশা থেকে উদ্ধারকৃতরা চারজনই কিশোর। পুলিশ জানিয়েছে, এদের মধ্যে দুজন রবিবার সকালে কক্সবাজার বেড়াতে এসে দালালচক্রের কবলে পড়ে শিউলি রিসোর্ট নামের ওই কটেজে উঠতে বাধ্য হয়। এ ছাড়া উদ্ধার হওয়া অপর দুজন কক্সবাজারে মায়ের চিকিৎসা করাতে এসে অপহৃত হয়।

ট্যুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম জানান, রবিবার মধ্যরাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত কক্সবাজারের লাইট হাউস এলাকাসংলগ্ন আবাসিক কটেজ জোন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। শিউলী কটেজের একটি কক্ষে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করা হয় চারজনকে। একই সঙ্গে ওই কক্ষ থেকে নির্যাতনের কাজে ব্যবহৃত নানা সামগ্রীও জব্দ করা হয়। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

মো. রেজাউল করিম বলেন, অভিযানের সময় কটেজের বিকল্প পথে নারীসহ চক্রের মূলহোতা আবদুর রহিম ও লোকমান পালিয়ে যায়। আটক ১১ জন দালাল ছাড়াও এ চক্রের সঙ্গে জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের শতাধিক সদস্য রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।



সাতদিনের সেরা