kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সাগর উত্তাল, কূলে ফিরছে শত শত ইলিশের ট্রলার

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা   

৮ আগস্ট, ২০২২ ১৬:১৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাগর উত্তাল, কূলে ফিরছে শত শত ইলিশের ট্রলার

ছবি : কালের কণ্ঠ

‘সাগরে পাহাড় সমান ঢেউ। জাল ফেলার উপায় নেই। ঢেউয়ে পড়ে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তাই চলে এসেছি। ’ সাগর থেকে ফিরে এসে এফবি রহিমুল্লাহ ট্রলারের মাঝি আউয়াল মিয়া এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

রহিমুল্লাহ মাঝির মতো সাগর থেকে ফিরে এসেছেন এফবি মা বুশরা ট্রলারের মালিক মো. বেলায়েত খান। তিনি বলেন, ‘ঢেউয়ের আঘাতে সাগরে পেতে রাখা অনেক ট্রলারের জাল ছিঁড়ে গেছে। আমার ট্রলারের জালও ছিঁড়েছে। ’ 

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর অশান্ত হয়ে উঠেছে। গত শনিবার রাত থেকে শুরু হয়েছে প্রবল ঢেউ। উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে টিকতে না পেরে রবিবার (৭ আগস্ট) সকাল থেকে সাগর ছেড়ে ঘাটে নোঙর করেছেন আউয়াল মিয়া ও রহিমুল্লাহর মতো শত শত মাঝি।

সমুদ্রে ইলিশ আহরণে নিয়োজিত বেশির ভাগ ট্রলার সুন্দরবনসহ উপকূলের বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। তবে দুবলার চরের কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে অগভীর এলাকায় কিছু কিছু ট্রলার এখনো মাছ ধরছে। বন বিভাগ, মৎস্যজীবী সংগঠন ও জেলেদের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাগর থেকে কূলে ফিরে আসা উপকূলের বিভিন্ন এলাকার শত শত ফিশিং ট্রলার পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চর, মেহের আলীর চর, ভেদাখালীর অফিস খাল, কচিখালী, শরণখোলা উপজেলার রাজেশ্বর, পূর্ব খোন্তাকাটা, রাজৈর, কুমারখালী এবং কলাপাড়া উপজেলার মহিপুরে অবস্থান করছে।

সোমবার (৮ আগস্ট) দুপুরে বাগেরহাটের শরণখোলার রাজৈর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, বৈরী আবহাওয়ায় টিকতে না পেরে সাগর থেকে ৮-১০টি ফিশিং ট্রলার আগের দিন (রবিবার) রাতে উঠে এসে ঘাটে নোঙর করে আছে। ঢেউয়ের আঘাতে অনেক ট্রলারের জাল ছিঁড়ে গেছে। সেই ছেঁড়া জাল মাছের আড়তের চাতালে বসে মেরামত করতে দেখা গেছে জেলেদের।

সমুদ্রগামী মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার জানান, দীর্ঘ ৬৫ দিনের অবরোধ শেষে গত ২৩ জুলাই থেকে সাগরে ইলিশ আহরণ শুরু হয়। প্রথম দুই গোনে সাগরে তেমন ইলিশ পড়েনি। চলতি গোনে মাছ পড়তে শুরু করেছে। সব ট্রলারেই কমবেশি মাছ পাচ্ছে। কিন্তু এরই মধ্যে আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায়। সাগরে জাল ফেলতে পারছে না জেলেরা। আবহাওয়া ভালো থাকলে গত দুই গোনের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারতেন মহাজনরা।

শরণখোলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন জানান, বেশির ভাগ ট্রলার সাগর ছেড়ে এখন কূলে অবস্থান করছে। শরণখোলার শতাধিক ট্রলার সুন্দরবন ও উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। কিছু কিছু ট্রলার কাছাকাছি সাগরে মাছ ধরছে এখনো।

ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন আরো জানান, ইলিশ মৌসুমের শুরুতেই ৬৫ দিনের অবরোধ গেল। এরপর সামনে অক্টোবরে আসছে ২২ দিনের অবরোধ। এ ছাড়া মৌসুমে বেশির ভাগ সময় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাগর অশান্ত থাকে। এ সময় মাছ ধরা প্রায় বন্ধ থাকে। এতে ইলিশি মৌসুমের পাঁচ মাসের অর্ধেক সময় চলে যায় অবরোধ আর দুর্যোগে।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চর জেলেপল্লী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলিপ কুমার মজুমদার জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুই-তিন দিন ধরে সাগর কিছুটা ফুঁসে উঠছে। এ অবস্থায় সাগর থেকে ৩০-৪০টি ট্রলার বনের বিভিন্ন ছোট খালে আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়ে থাকা এসব ট্রলার ও জেলেদের নিরাপত্তার জন্য বনরক্ষীরা নিয়োজিত রয়েছেন।



সাতদিনের সেরা