kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ আগস্ট ২০২২ । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১২ মহররম ১৪৪৪

চলন্ত বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণ

চালককে সরিয়ে স্টিয়ারিং হাতে নেন ডাকাত রাজা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি   

৬ আগস্ট, ২০২২ ২২:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চালককে সরিয়ে স্টিয়ারিং হাতে নেন ডাকাত রাজা

কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঈগল পরিবহনের চলন্ত বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালের বিচারক সামছুল আলম ও রুমি খাতুন পৃথকভাবে শনিবার বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। আদালত পরিদর্শক তানভীর আহমেদ কালের কণ্ঠকে রাতে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, চাঞ্চল্যকর মামলাটি করার পর থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের চিহ্নিত করে।

বিজ্ঞাপন

পরে বৃহস্পতিবার রাজা মিয়া নামের ডাকাতদলের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। রাজা ডাকাতির সময় চালককে সরিয়ে বাসটি চালাচ্ছিলেন। রাজা মিয়াকে আদালতে হাজির করে পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডের দুই দিনেই রাজা মিয়াকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

অপর দিকে একই ঘটনায় শুক্রবার গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে আবদুল আওয়াল ও নুরুন্নবীকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাদেরকে শনিবার আদালতে হাজির করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবাবন্দি দেন।

আদালতে পুলিশের পরিদর্শক তানভীর আহমেদ বলেন, সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক সামছুল আলম রাজা মিয়া ও নুরুন্নবীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। অপরদিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক রুমি খাতুন আব্দুল আওয়ালের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

গত বুধবার মধুপুর থানায় ডাকাতি ও দল বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে বাসটির যাত্রী হেকমত আলী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তখন মধুপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুরাদ হোসেনকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে বৃহস্পতিবার রাতেই পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।  

হেলাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, অন্য আসামিদের চিহ্নিত করা গেছে। তাদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে ঈগল পরিবহনের বাসটি নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের একটি খাবার হোটেলে যাত্রাবিরতি নেয়। সেখান থেকে যাত্রা শুরুর পর তিন দফায় যাত্রীবেশী ১০-১২ জন ডাকাত বাসে ওঠে। বাসটি টাঙ্গাইল অতিক্রম করার সময় ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে চালককে জিম্মি করে বাসটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর তারা যাত্রীদের হাত, পা, চোখ বেঁধে তাঁদের কাছে থাকা টাকা, মুঠোফোন ও অলংকার লুট করে নেয়। এ সময় বাসে থাকা এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় বাসের যাত্রী হেকমত আলী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

 



সাতদিনের সেরা