kalerkantho

রবিবার । ১৪ আগস্ট ২০২২ । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৫ মহররম ১৪৪৪

৮ জনকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টায় থানায় অভিযোগ, ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা:   

৬ আগস্ট, ২০২২ ১৯:১৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৮ জনকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টায় থানায় অভিযোগ, ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার

ইউপি সদস্য বজলুর রহমান ওরফে বজলু

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলায় বজলুর রহমান ওরফে বজলু নামের এক ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা।  

বজলুর রহমান উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের কাছে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত বজলু ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতির পদেও রয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্রীপুর ইউনিয়ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে, ওই ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামের বাসিন্দা বজলুর রহমান ও তার সহযোগী পাশের যশপুর গ্রামের আবদুর রশিদের নেতৃত্বে চাঁদাবাজির ঘটনায় দায়ের করা মামলা তুলে না নেওয়ায় এক ব্যবসায়ীসহ তার পরিবারের আট সদস্যকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন ওরফে নাসির ডিলারের বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতরা সবাই বর্তমানে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।  

এ ঘটনায় শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইউপি সদস্য বজলুর রহমানসহ ১৯ জনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আহত ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন। তবে এদিন বিকেল পর্যন্ত অভিযোগটি থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনের আগের একটি হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলায় ইউপি সদস্য বজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এ ছাড়া ২০১৬ সালের নির্বাচনী সংঘর্ষের একটি মামলায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বজলুর বিরুদ্ধে।

শনিবার দুপুরে আহত ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনের ছেলে মোতাহার হোসেন জানান, গোপালনগর গ্রামের বজলুর রহমান ও তাঁর সহযোগী পাশের যশপুর গ্রামের আবদুর রশিদের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা রামদা, ছেনি, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শুক্রবার বিকেলে তাদের পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন, নাসিরের স্ত্রী রহিমা বেগম, ছেলে মোবারক হোসেন, মোতাহার হোসেন, চাচা আলী মিয়া, চাচাতো ভাই আবুল কালাম, মাইন উদ্দিন, চাচাতো বোন ফাতেমা আক্তার গুরুতর আহত হয়েছেন।
 
তিনি আরো বলেন, পাশের নালঘর বাজারে আমাদের রড, সিমেন্ট, ধান, চালসহ বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে ইউপি সদস্য বজলুর রহমান তার লোকজন নিয়ে এসে আমাদের কাছে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে আমরা এ ঘটনায় মামলা করি, কিছুদিন আগে সেই মামলায় আদালত বজলুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরই মধ্যে গত ১৪ জুলাই বজলুর ও রশিদ আমাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এসে আমার বাবা ও ভাইকে কুপিয়ে ১০ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলে জানান তিনি।

মোতাহার হোসেন আরো বলেন, এ ঘটনায় আমরা আরেকটি মামলা করি আদালতে। দুটি মামলা করায় ইউপি সদস্য বজলুর রহমান আমাদের পরিবারের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং বেশ কিছুদিন ধরে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে আসছিল। মামলা তুলে না নেওয়ায় শুক্রবার আমাদের হত্যার উদ্দেশ্যে এই সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।


চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, ইউপি সদস্য বজলুর রহমানের বিরুদ্ধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনসহ আটজনকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় বজলুর রহমানসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন থানায় অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

প্রসঙ্গত, ইউপি সদস্য বজলুর রহমানের বিরুদ্ধে অপর একটি হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার আদালত তার তিন বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন। পরে সাজার বিরুদ্ধে বজলুর উচ্চ আদালতে আপিল করেন। বর্তমানে উচ্চ আদালতের নির্দেশে সেটি স্থগিত রয়েছে।



সাতদিনের সেরা