kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

পাটের ক্ষতি মেটাতে পাটকাঠিই ভরসা

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি   

৫ আগস্ট, ২০২২ ১৪:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাটের ক্ষতি মেটাতে পাটকাঠিই ভরসা

ফরিদপুরের সালথায় এবার সোনালী আঁশ পাটের চেয়ে পাটকাঠির কদর বেড়েছে কয়েকগুন। বাণিজ্যিকভাবে পাটকাঠির ব্যবহার বাড়ায় আর দাম ভালো হওয়ায় পাটের পাশাপাশি পাটকাঠির যত্নও নিচ্ছেন কৃষকরা। উপজেলার সর্বত্রই নদ-নদী আর খাল-বিলের পাড়ে সুন্দর করে আঁটি বেঁধে সাজিয়ে পাটকাঠি শুকানোর দৃশ্য চোখে পড়ে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে চলতি মৌসুমে পাটের যে ক্ষতি হয়েছে তা পাটকাঠি দিয়ে পোষাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন কৃষকরা।

বিজ্ঞাপন

দিন-রাত পাটকাঠির ওপর শ্রম দিচ্ছেন তারা।  

কৃষকরা জানিয়েছেন, বৃষ্টি আর বর্ষার পানির অভাবে এবার পাট জাগ দিতে হিমশিম খান চাষিরা। এমনকি পানির অভাবে অনেকস্থানে ক্ষেতেই পাট শুকিয়ে মরে যায়। এমন পরিস্থিতে কৃষকরা মাটি খুঁড়ে পাট জাগ দিতে বাধ্য হন। এতে নষ্ট হয় পাটের কালার। ফলে পাটের দামও তুলনামূলক কম পেতে হচ্ছে কৃষকদের। তবে পাটের পাশাপাশি পাটকাঠির কালার কিছুটা নষ্ট হলেও দামে এর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। কৃষকদের ধারণা, এবার পাটের ক্ষতি আর লোকসান পুষিয়ে নিতে পাটকাঠির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিকল্প নেই।

উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রঘুয়ারকান্দী গ্রামের পাটচাষি হারুন মিয়া ও হাফেজ মোল্যা বলেন, পানির সমস্যার কারণে এবার পাট নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। মাটি খুঁড়ে আর নোংরা জলাশয়ে জাগ দিয়ে পাটের রং নষ্ট হওয়ায় দাম প্রতিমণে চার থেকে পাঁচশ টাকা কম পেতে হচ্ছে। তবে পাটকাঠির রঙের তেমন পরিবর্তন হয়নি। আবার পাটকাঠির দামও চড়া। তাই পাটপাঠির ওপর গুরুত্ব দিয়ে যত্ন নিতে শুরু করেছি। কারণ, এক বিঘা জমিতে ১৮ থেকে ২০ মণের মতো পাটের ফলন হয়। আর তা থেকে প্রায় দুই হাজার আঁটি পাটকাঠি বের হয়। প্রতিআঁটি পাটিকাঠি পাঁচ টাকা দরে বিক্রি করছি। এতে প্রতিবিঘা জমিতে প্রায় ১০ হাজার টাকার পাটকাঠি বিক্রি করতে পারবো। তবে বিগত বছরগুলোতে সময়ের অভাবে পাটকাঠির ওপর তেমন গুরুত্ব ছিল না আমাদের।

উপজেলা ভাওয়াল ইউনিয়নের পুরুরা সাধুপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম ও মনির মোল্যা বলেন, পাটকাঠি আমাদের গ্রামঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়। মাটির চুলায় রান্নার প্রধান জ্বালানি হিসেবে পাটকাঠি ব্যবহার করি। আর পাটকাঠির পুড়া ছাই ব্যবহার করা হয় থালা-বাসন ধোয়ার কাজে। ঘর ও বাড়ির প্রাচীর ঘিরে রাখার কাজেও পাটকাঠি অনেকে ব্যবহার করেন। তারা আরও বলেন, সালথায় দুটি পাটকাঠির মিল রয়েছে। সেই মিল থেকে ক্রেতা এসে আশানুরূপ দামে কিনে নেন। এতে এবার পাটকাঠি বিক্রি করে পাটের লোকসানও অনেকটা পুষিয়ে যাবে। পাটের পাশাপাশি পাটকাঠিরও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার বাড়ায় একই ফসলে আমাদের বাড়তি আয়ের ব্যবস্থা হয়েছে। এতে আমরা আনন্দিত।

সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জীবাংশু দাস বলেন, জ্বালানী হিসেবে, বাড়িঘর ও সবজি ক্ষেতের বেড়া, মাচা, পান বরজ, ইত্যাদি কাজে পাটকাঠির ব্যবহার দীর্ঘকাল আগে থেকেই রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ব্যাপক হারে পার্টিকেল বোর্ড তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে পাটকাঠি। পাটখড়ি বা পাটকাঠির কার্বন চারকোল নামে পরিচিত। চীনসহ বিভিন্ন দেশে পাটকাঠি পুড়িয়ে পাওয়া কার্বন থেকে আতশবাজি, কার্বন পেপার, প্রিন্টার ও ফটোকপিয়ারের কালি, মোবাইলের ব্যাটারি, দাঁত পরিষ্কারের ওষুধ ও সারসহ নানা পণ্য তৈরি করা হয়। তাছাড়া পাটকাঠি থেকে একটিভেটেড কার্বন ও উৎপাদন করা হয় যা ওয়াটার পিউরিফিকেশন প্লান্টে ব্যবহার করা হয়। এসব কারখানা অত্র এলাকায় স্থাপন করা গেলে পাটের চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। কৃষকেরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।  



সাতদিনের সেরা