kalerkantho

বুধবার । ১৭ আগস্ট ২০২২ । ২ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৮ মহররম ১৪৪৪

চলন্ত বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণ : গ্রেপ্তার ব্যক্তির ৫ দিনের রিমান্ড

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি   

৪ আগস্ট, ২০২২ ২২:১২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চলন্ত বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণ : গ্রেপ্তার ব্যক্তির ৫ দিনের রিমান্ড

টাঙ্গাইলের মধুপুরে যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় রাজা মিয়া নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) ভোরে টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার রাজা মিয়া জেলার কালিহাতী উপজেলার বল্লা গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে।

বিজ্ঞাপন

তিনি টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন ও টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা সড়কে ঝটিকা বাসের চালক ছিলেন।

পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, মধুপুরে বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। রাতে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল আমিন বলেন, ‘বাসটিতে ২৪ থেকে ২৫ জন যাত্রী ছিল। এর মধ্যে ছয় থেকে সাতজন নারী যাত্রী ছিল। বাসের সবাইকে মিম্মি করে সব কিছু লুট করে নেয় তারা। এ সময় এক নারীকে ধর্ষণ করা হয়। রাত দেড়টা থেকে রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বাসটি ডাকাতদলের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ’

বুধবার (৩ আগস্ট) ভোরে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া জামে মসজিদের পাশে বালির স্তূপে বাসটিকে উল্টিয়ে দিয়ে ডাকাতদল পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এক যাত্রী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ধর্ষণের শিকার ওই নারীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।  

কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঈগল পরিবহনের এক নারী যাত্রী জানান, তিনি অসুস্থ মেয়েকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের সবাইকে হাত, মুখ, চোখ বেঁধে ডাকাতরা সব লুট করে নিয়েছে। তার স্বামীকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছে। তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে। বাসে থাকা অন্য নারী যাত্রীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

এদিকে খবর পেয়ে কুষ্টিয়া থেকে ঈগল পরিবহনের ম্যানেজার আয়নাল হোসেন মধুপুরে যান। তিনি জানান, মির্জাপুরের পাকুল্যা এলাকার একটি ফাঁকা মাঠে বাস ঘুরিয়ে টাঙ্গাইলের দিকে নিয়ে নেওয়া হয়। পরে বাসটিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে মধুপুরের দিকে নেওয়া হয়।  

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাদিকুর রহমান জানান, ওই নারীর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। আলামত ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে। তবে রিপোর্ট পেলে ধর্ষণের বিষয়টি জানা যাবে।

টাঙ্গাইল আদালতের পরিদর্শক তানভীর আহমেদ বলেন, ধর্ষণের শিকার ওই নারী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুমি খাতুনের আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এদিকে আদালতে আসামি রাজা মিয়ার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।  

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বাদল কুমার চন্দের গোপালপুর-মধুপুর আমলি আদালতে আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা