kalerkantho

বুধবার । ১৭ আগস্ট ২০২২ । ২ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৮ মহররম ১৪৪৪

'খোদাই এখন ভরসা', প্রতিবেশীর বাধায় বিদ্যুৎ যায়নি খোদেজার ঘরে

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ    

৪ আগস্ট, ২০২২ ১৭:৩১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'খোদাই এখন ভরসা', প্রতিবেশীর বাধায় বিদ্যুৎ যায়নি খোদেজার ঘরে

জমির ওপারে বিদ্যুতের খুঁটি। ওখান থেকে জমিটির ওপর দিয়ে ঘরে (ডানে ঘরের একাংশ) বিদ্যুতের লাইন আসতে দেওয়া হয়নি প্রতিবেশীর বাধায়। ইনসেটে ভুক্তভোগী খোদেজা

দুই বছরেরও বেশি সময় আগে 'শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ' স্লোগানটি শুনেছিলেন বিধবা খোদেজা খাতুন। তখন আশায় বুক বেঁধেছিলেন এবার বিদ্যুৎ সংযোগ মিলবে ঘরে। ওই সময় তার আশপাশে বসবাসকারীরা বিদ্যুৎ সংযোগ পেলেও খোদেজার ভাগ্যে জোটেনি। এরপর অনেক চেষ্টায় বাড়ির কাছে একটি খুঁটি দাঁড় হলেও প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বাধার কারণে তিনি বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছেন না।

বিজ্ঞাপন

এ অবস্থায় খোদেজা বলেন, 'আমার ব্যবস্থা কেউ করতে পারল না। খোদাই এখন ভরসা। '

এই খোদেজা খাতুন (৬৫) হচ্ছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মুশুলি ইউনিয়নের মেছেরকান্দা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মৃত হাছেন আলীর স্ত্রী।  

সম্প্রতি ওই গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, খোদেজার বাড়ির পূর্ব-দক্ষিণ কোণে বিদ্যুতের খুঁটি পোঁতা রয়েছে। কিন্তু খুঁটির মাথায় বিদ্যুতের তার নেই। বিদ্যুৎলাইন স্থাপনের ঠিকাদার খুঁটির মাথায় তার না টানিয়ে খোদেজার ঘরের বারান্দায় রেখে গেছেন।

এ বিষয়ে খোদেজা বলেন, প্রতিবেশী মো. নুর উদ্দিন খুঁটিতে বিদ্যুতের তার লাগাতে ঠিকাদারকে বাধা দিয়েছেন। কারণ, তার জমির ওপর দিয়ে তার যাবে। মেছেরকান্দা গ্রামজুড়ে মানুষের জমিতে বিদ্যুতের খুঁটি পোঁতা হয়েছে। খুঁটির মাথায় তার লাগানো হয়েছে। নুর উদ্দিনসহ গ্রামের সবাই বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করছেন। কিন্তু আমার বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। আমার পরিবার কেন বিদ্যুৎবঞ্চিত হচ্ছে তা জানার জন্য খোদেজা নেতা, জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার ছোট-বড় মাতবরদের দ্বারস্থ হয়েছেন। কেউ তার সমস্যাটি আমলে নেননি। তিনি অর্ধসমাপ্ত বসতঘরটি দেখিয়ে বলেন, পুকুর থেকে কলসিতে করে পানি বয়ে এনে রাজমিস্ত্রিকে দিয়েছেন। এভাবে কী পাকা ঘরের কাজ করা যায়। বিদ্যুৎ সংযোগ পেলে বাড়িতে মোটর বসিয়ে পানি তুলতে পারতাম। বাড়িটা অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকত না।

খোদেজা আরো বলেন, তিনি বারবার কিশোরগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপকের (জিএম) কার্যালয়ে গিয়ে ঘটনাটি জানিয়েছেন। কিন্তু আশ্বাস ছাড়া কোনো ফল পাননি। পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বাধাপ্রদানকারীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। গত দুই বছর ধরে তিনি ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। তিনি হতাশ কণ্ঠে বলেন, অনেকেই নান্দাইলকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা বলে থাকেন। আমাকে বিদ্যুৎপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করে নান্দাইল কিভাবে শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা হলো। আমার অপরাধ কী। এসব বলতে গিয়ে খোদেজা কান্নায় ভেঙে পড়েন।  

বাধা প্রদানের অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য জানার জন্য নুর উদ্দিনকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তিনি ফসলি জমিতে বাড়ি করতে পারেন। সে কারণে তার টানাতে বাধা দিয়েছেন। কিন্তু জমির ওপর তো হাইটেনশান (উচ্চমাত্রার) বিদ্যুৎলাইন রয়েছে। আপনি সেখানে বাড়ি নির্মাণ করবেন কিভাবে- এমন প্রশ্ন করলে নুর উদ্দিন বলেন, না হয় একটু সরিয়ে করব।  

খোদেজা জানান, জমিজমা নিয়ে নুর উদ্দিনের সঙ্গে তার বিরোধ রয়েছে। আদালতে মামলা রয়েছে। এ ছাড়া নুর উদ্দিন আমার সীমানার একটি মূল্যবান গাছ কেটে নিয়েছেন। এ নিয়ে তিনি তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছিলেন। এসব বিরোধের জের ধরে নুর উদ্দিন আমার বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে বাধা দিচ্ছেন বলে খোদেজার অভিযোগ।  

বিদ্যুতের লাইন স্থাপনের ঠিকাদার মো. আমিনুর রহমান বলেন, আমার লোকজনকে সেখানে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। বাধা পেয়ে দুবার তারা ফিরে এসেছেন।  

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিদ্যুতের লোকজন কারো সঙ্গে মারামারি করে কাজ করবে না। তাহলে বৃদ্ধ খোদেজা খাতুনের মতো নিরীহ লোকজন বিদ্যুৎ পাবেন কিভাবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সেটা এলাকার লোকজন বসে সিদ্ধান্ত নেবেন।  



সাতদিনের সেরা