kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

সারের দাম বাড়লেও ফসল উৎপাদনে প্রভাব পড়বে না : কৃষিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক   

৩ আগস্ট, ২০২২ ১৫:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সারের দাম বাড়লেও ফসল উৎপাদনে প্রভাব পড়বে না : কৃষিমন্ত্রী

ইউরিয়া সারের দাম কেজিতে ৬ টাকা বাড়লেও ফসল উৎপাদনে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম কমলে দেশেও কমানো হবে।

আজ বুধবার (৩ আগস্ট) সকালে বরিশাল শহরের শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। বরিশাল বিভাগসহ উপকূলীয় অঞ্চলে তেল, ফসল ও ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)।

বিজ্ঞাপন

সরকার ইউরিয়া সারের সুষম ব্যবহারের উপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করছে এ কথা উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের মধ্যে ইউরিয়া সার বেশি ব্যবহার করার প্রবণতা রয়েছে।

তিনি বলেন, ডিএপি সারে শতকরা ১৮ ভাগ নাইট্রোজেন বা ইউরিয়া সারের উপাদান রয়েছে। সেজন্য ডিএপির ব্যবহার বাড়িয়ে ইউরিয়া সারের অপ্রয়োজনীয় ও মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেয় সরকার। এজন্য ২০০৯ সালে ডিএপি সারের মূল্য প্রতি কেজি ৯০ টাকা থেকে কমিয়ে প্রথমে ২৫ টাকা এবং ২০১৯ সালে ২৫ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬ টাকা করে কৃষকদের দিয়ে যাচ্ছে সরকার। এ উদ্যোগের ফলে বিগত কয়েক বছরে ডিএপি সারের ব্যবহার দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিএপির সারের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলেও ইউরিয়া সারের চাহিদা কমেনি। দাম বৃদ্ধির ফলে ইউরিয়া সারের ব্যবহার কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি কেজি ইউরিয়ার সারের বর্তমান দাম ৮১ টাকা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার ইউরিয়া সারের দাম ১ আগস্ট থেকে কেজিতে ৬ টাকা বাড়িয়েছে। ফলে ডিলার পর্যায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্রতিকেজি ১৪ টাকা থেকে ২০ টাকা এবং কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি ১৬ টাকা থেকে বেড়ে ২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সংকটকে কাজে লাগিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার ও সংকট থেকে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি। তারা আহাম্মকের স্বর্গে বাস করছে। এ দেশের জনগণ অত্যন্ত সচেতন ও বাস্তববাদী। জনগণ বিএনপির অপশাসন, লুটতরাজ ও দুর্নীতি ভুলে যায় নি। বিএনপির আমলে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছিল, দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব তৈরি হয়েছিল, নৈরাজ্যকর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল।

মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় উন্নতদেশগুলোও হিমশিম খাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য,জার্মানি, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ অনেক দেশেই বাংলাদেশের চেয়ে মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি। আন্তর্জাতিক সংকটের ফলে দেশের মানুষের কিছুটা সাময়িক কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু দেশে চরম কোনো সংকট হবে না, খাদ্য সংকট বা কোনো হাহাকার হবে না।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি তাদের শাসনামলের পাঁচ বছরে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে নি। কাজেই বিএনপি, জামায়াত যতই অপচেষ্টা করুক, তারা সফল হবে না। দেশের মানুষ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে না। জনগণ সবসময়ই আমাদের সাথে ছিল, আগামীতেও আমাদের সাথে থাকবে’।

কৃষিসচিব মো. সায়েদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, ব্রির মহাপরিচালক শাহজাহান কবীর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বেনজীর আলম, বিএডিসির চেয়ারম্যান এএফএম হায়াতুল্লাহ ও বারির মহাপরিচালক দেবাশীষ সরকার কর্মশালায়।

কর্মশালায় বক্তারা উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ত জমিতে চাষযোগ্য তেল ফসল ও উচ্চ উৎপাদনশীল ধানের জাত দ্রুত সম্প্রসারণের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।



সাতদিনের সেরা