kalerkantho

সোমবার । ১৫ আগস্ট ২০২২ । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৬ মহররম ১৪৪৪

বগুড়ার আদমদীঘিতে পৃথক ঘটনা

বসতঘরে আগুনে গৃহবধূর মৃত্যু, বাজারে পুড়ল ১৩ দোকান

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি    

২৮ জুলাই, ২০২২ ১৫:১৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বসতঘরে আগুনে গৃহবধূর মৃত্যু, বাজারে পুড়ল ১৩ দোকান

বসতঘরে আগুন লেগে পুড়ে মারা যান গৃহবধূ শামীমা

বগুড়ার আদমদীঘিতে আগুনে পুড়ে ঘুমন্ত অবস্থায় শামীমা বেগম (৪৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ওই রাতে শামীমার স্বামী আজাদুর রহমান ঘরে থাকলেও তার খোঁজ মিলছে না। এ কারণে গৃহবধূর এমন মৃত্যুতে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোররাত ৩টার দিকে উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের বশিপুর গ্রামে এ আগুনের ঘটনায় টিনের দুটি ঘর ও আসবাবপত্র পুড়ে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, ছয় বছর আগে উপজেলার সান্তাহার পৌর এলাকার বশিপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে আজাদুর রহমান জমি কিনে দুটি টিনের ঘর নির্মাণ করে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছিলেন। তাদের ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। তারা আলাদা থাকেন। বশিপুর গ্রামের ওই বাড়িতে তারা স্বামী-স্ত্রী বসবাস করতেন। হঠাৎ ভোররাতে আজাদুরের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা ঘটনাটি দেখতে পেয়ে নওগাঁ ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে ঘুমন্ত শামীমা আগুনে পুড়ে মারা যান। এ ছাড়া টিনের দুটি ঘর ও আসবাবপত্র পুড়ে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।  

অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর খবর পেয়ে সান্তাহার ফাঁড়ি ও আদমদীঘি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুনে পোড়া শামীমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে। কিন্তু তার স্বামী আজাদুরের মরদেহ পাওয়া যায়নি এবং তার কোনো সন্ধানও পাচ্ছে না পুলিশ।

আজাদুরের ছেলে রাকিব হোসেন জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে মোবাইল ফোনে তার মায়ের সঙ্গে কথা হয়। সে সময় তার বাবা ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানান মা।

নওগাঁ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শফিউল ইসলাম জানান, মশার কয়েল থেকে আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার পরও বিষয়টি আরো খতিয়ে দেখা হবে।  

এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার শাঁওইল বাজারের রায়হান শেখের সুতা মার্কেটে শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ভয়াবহ আগুনে ১৩টি দোকান ভস্মীভূত হয়েছে। এতে প্রায় ৪৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা জানান, মুহূর্তেই ১২-১২টি সুতার দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।  

বাজার কমিটির সভাপতি আতোয়ার শেখ বলেন, অগ্নিকাণ্ডে মার্কেটের প্রায় ৪০-৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। গৃহবধূর স্বামীকে না পাওয়ায় ঘটনাটি রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে। আজাদুরের ছেলের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বাবা ঘরেই ঘুমিয়ে ছিলেন। কিন্তু তার মরদেহ সেখানে পাওয়া যায়নি। ঘটনাটির তদন্ত চলছে।  

এ ছাড়া শাঁওইল বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটানায় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য এবং ফায়ার সার্ভিসের ধারণা অনুযায়ী, শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।



সাতদিনের সেরা