kalerkantho

সোমবার । ১৫ আগস্ট ২০২২ । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৬ মহররম ১৪৪৪

গ্যাস সংকট ও লোড শেডিংয়ে বন্ধ যমুনা সার কারখানা

২১ জেলায় সার সংকটের আশঙ্কা

মমিনুল ইসলাম কিসমত, সরিষাবাড়ী (জামালপুর)    

২৭ জুলাই, ২০২২ ১৮:০৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গ্যাস সংকট ও লোড শেডিংয়ে বন্ধ যমুনা সার কারখানা

জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে দেশের সর্ববৃহৎ ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানায় গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। চলমান বন্ধের মধ্যে নতুন করে যোগ হয়েছে বিদ্যুতের লোড শেডিং। এর ফলে ইউরিয়া সার উৎপাদনের শঙ্কায় রয়েছে কারখানার কর্তৃপক্ষ।

উৎপাদনে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় এতে করে কারখানার আওতাধীন জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল ও উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলায় সামনের বোরো ও আমন মৌসুমে ইউরিয়া সারের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আমদানিনির্ভর সারের কথা উল্লেখ করে কোনো সংকট হবে না বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, কেপিআই-১ মানসম্পন্ন বিসিআইসির যমুনা সার কারখানা প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯০ সালে উপজেলার তারাকান্দিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মে. টন ইউরিয়া সার উৎপাদনে সক্ষম হলেও গ্যাস সংকট এবং বিভিন্ন যান্ত্রিক দুর্বলতায় এখন তা কমে ১২০০  থেকে ১৪০০ মে. টনে নেমে এসেছে। বার্ষিক ৩ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও গত অর্থবছরে কারখানাটিতে বাৎসরিক উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ২৫৫ মেট্রিক টন।  

বাৎসরিক লক্ষ্যমাত্রা ও উৎপাদনের মধ্যে প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টনের ফারাক থাকলেও বর্তমানে গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদনে অক্ষম দেশের এই বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান। কারখানা চালাতে চাহিদার তুলনায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় চলতি বছরের ২১ জুন থেকে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কারখানাটিতে পরিমাণমতো ইউরিয়া সার উৎপাদন করতে প্রতিদিন গ্যাসের প্রয়োজন ছিল ৪০ থেকে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট। এর পরিবর্তে কারখানাটিতে গ্যাস সরবরাহ হতো ৩৫ থেকে ৩৮ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন হ্রাস পায় শতকরা ১০ ভাগ।  

গ্যাস সংকটে কারখানাটি এক মাস যাবৎ বন্ধ, এর মধ্যে শুরু হয়েছে ঘন ঘন লোড শেডিং। উৎপাদনে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় এতে করে কারখানার আওতাধীন জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল ও উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলায় সামনের বোরো ও আমন মৌসুমে ইউরিয়া সারের তীব সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও কারখানা কর্তৃপক্ষ আমদানিনির্ভর সারের কথা উল্লেখ করে সারের সংকট হবে না বলে জানিয়েছেন। অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে সরকার গ্যাস সংকট নিরসন করে পুনরায় কারখানাটির উৎপাদন সচল করবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

কারখানার একাধিক শ্রমিক বলেন, যমুনা সার কারখানা প্রায় ১ মাস যাবৎ বন্ধ থাকার কারণে আমরা পরিবহন শ্রমিকরা খুবই দুচিন্তায় আছি। এভাবে চলতে থাকলে আমরা কর্মহীন হয়ে পড়ব। পরিবার-পরিজন নিয়ে রাস্তায় নামা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

সার কারখানার ডিলার আশরাফুল আলম মানিক, আবুল সরকারসহ একাধিক সারের ডিলার বলেন, যমুনা সার কারখানাটি নিজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের ২১টি জেলায় সার রপ্তানি করে থাকে। আমরা ডিলাররা খুবই স্বল্প খরচে এখান থেকে সার বিভিন্ন জেলায় পাঠাতে পারি । যদি এ কারখানা সচল না হয়, তবে আমাদের অন্য জেলা থেকে সার আমদানি করতে হবে। এতে খরচের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে দ্বিগুণ।

তারাকান্দি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির টেকনিশিয়ান এ বি এম নূর ইসলাম বলেন, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি তারাকান্দিতে গ্যাসের চাপ কম থাকায় আমরা যমুনা সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করতে পারছি না। লোডশেডিং থাকায় গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না বলে কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছে বলে জানান তিনি।

উপজলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ অঞ্চলের কৃষকরা যমুনার সার জমিতে ব্যবহারে অভ্যস্ত। যমুনার সার কৃষকরা না পেলে তারা ক্ষতির মুখে পড়বে। যমুনার উৎপাদন এভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে সামনে বোরো - আমন মৌসুমে এ অঞ্চলের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।

যমুনা সার কারখানার মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) আব্দুল হালিম কালের কণ্ঠকে বলেন, গত মাসের ২১ তারিখ থেকে গ্যাস সংকটের কারণে যমুনা সার কারখানায় ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। পাইপে গ্যাস নেই। কর্তৃপক্ষ সরবরাহ দিতে পারছে না। উৎপাদন বন্ধ থাকায় কৃষক,  ডিলার ও কারখানাসহ সবার ক্ষতি হচ্ছে। সর্বোপরি দেশের ক্ষতি হচ্ছে। এর মধ্যে আবার ঘন ঘন লোড শেডিং হচ্ছে। কবে নাগাদ গ্যাস পাওয়া যাবে সেটা সরকার বলতে পারবে। তাই কারখানার উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বলেও তিনি জানান।



সাতদিনের সেরা