kalerkantho

বুধবার । ১৭ আগস্ট ২০২২ । ২ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৮ মহররম ১৪৪৪

খরার কবলে উত্তরাঞ্চল, আমন ধানের রোপণ নিয়ে সংকটে চাষিরা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি   

২২ জুলাই, ২০২২ ১০:১৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খরার কবলে উত্তরাঞ্চল, আমন ধানের রোপণ নিয়ে সংকটে চাষিরা

বর্ষা মৌসুমে নেই পর্যাপ্ত বৃষ্টি। খবর কবলে ঠাকুরগাঁও জেলা। জমিতে দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত সেচ, বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। গতকাল সদর উপজেলার সালান্দর এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের বেশ কয়েকটি জেলার সঙ্গে খরার কবলে উত্তরের ঠাকুরগাঁও। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কৃষকরা জমিতে সেচ দিয়ে আমন রোপণ করছেন। অনেকে বাড়তি সেচ খরচের চিন্তায় আমন আবাদ করবেন কি না, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন। কৃষি বিভাগ বলছে, বৃষ্টিপাত হলে সংকট কেটে যাবে।

বিজ্ঞাপন

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর ঠাকুরগাঁও জেলায় এক লাখ ৩৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত রোপণ করা হয়েছে মাত্র আট হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে। কেউ কেউ শ্যালো মেশিন ও গভীর নলকূপ দিয়ে সেচ দিয়ে জমিতে আমন রোপণ করলেও খুব একটা কাজ হচ্ছে না। দু-এক দিনেই শুকিয়ে চৌচির হয়ে যাচ্ছে জমি। রোপা বাঁচিয়ে রাখতে প্রতিদিনই কৃষকদের জমিতে অতিরিক্ত সেচ দিতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। এতে লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচ উঠবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে কৃষকরা।

kalerkanthoসদর উপজেলা বালিয়া এলাকার কৃষক সামছুল ইসলাম বলেন, প্রায় এক মাস ধরে কোনো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেকেই জমিতে আমন চারা রোপণ করতে পারছে না। সূর্যের প্রখর রোদে ক্ষেতের মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে।

সালান্দর এলাকার কৃষক সফিকুল জানান, গত বছর তিনি প্রায় ছয় বিঘা জমিতে আমন রোপণ করেছিলেন। গত বছর খরা না হলেও বৃষ্টির পরিমাণ কম ছিল। সে সময় সেচ দিয়ে আমন রোপণ করতে হয়েছিল। এক ঘণ্টা সেচ দিতে ১৪০ টাকা খরচ হতো। প্রতিদিন গড়ে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা সেচ দিতে হতো। সে হিসেবে এক মাস সেচ দিতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়ে গেছে। এ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় আরো বেশি পরিমাণ সেচ দিতে হবে। এতে বাড়তি অনেক টাকা খরচ হয়ে যাবে। এ জন্য অনেকে আমনের আবাদ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন।

আকচা এলাকার কৃষক পরেশ চন্দ্র রায় জানান, বৃষ্টি ছাড়া আমন আবাদ করা সম্ভব নয়। এক বিঘা মাটিতে হালচাষ, সার, বীজ, রোপা লাগানো, সেচ ও কাটাই-মাড়াই করে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। অথচ বাজারে ধান বিক্রি করতে গেলে ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায় না। এ বছর আরো অবস্থা ভয়াবহ, এক মাসের বেশি সময় ধরে বৃষ্টি নেই। অতিরিক্ত সেচ দিয়ে আবাদ করলে লাভ দূরের কথা উৎপাদন খরচ ওঠানোই মুশকিল হয়ে যাবে।

রহিমানপুর এলাকার কৃষক রমজান আলী বলেন, খরার কারণে অনেকেই আমন আবাদ করছেন না। তাই সরকারের প্রতি অনুরোধ কৃষকদের বাঁচাতে জরুরিভাবে বিনা মূল্যে জেলার সব সেচযন্ত্র ও গভীর নলকূপ চালু করা হোক। এতে কৃষকরা উপকৃত হবেন।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মোছাম্মাৎ শামীমা নাজনীন জানান, অতিরিক্ত সেচ দেওয়ার কারণে কৃষকদের খরচ কিছুটা বেড়েছে। তবে এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনো সমস্যা হবে না। জেলায় প্রায় এক হাজার ৪৬৯টি গভীর নলকূপ, ৩৪ হাজার ২৫১টি অগভীর নলকূপ এবং ৪৭টি এলএলপি মোটরচালিত পাম্প চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্পূরক সেচের মাধ্যমে কৃষকরা যাতে চারা রোপণ করতে পারে সে বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, বৃষ্টি হলে সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।



সাতদিনের সেরা