kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১০ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২৮ সফর ১৪৪৪

সুনামগঞ্জে ব্যস্ত আদালতে প্রকাশ্যে বাদীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

২১ জুলাই, ২০২২ ১৪:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুনামগঞ্জে ব্যস্ত আদালতে প্রকাশ্যে বাদীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

সুনামগঞ্জে আদালত প্রাঙ্গণে জেলা আইনজীবী সমিতির অফিসের সামনের খোলা জায়গায় আসামির উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে মামলার বাদীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষুব্ধ জনতা তিন আসামিকে আটক করে আইনজীবী সমিতিতে রাখে। পরে পুলিশ এসে তাদের আটকদের থানায় নিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

তবে মূল আসামি পালিয়ে গেছেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। আদালত প্রাঙ্গণে খুনের এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।  

নিহতের নাম খোকন মিয়া (৪৫)। তিনি জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের গলাখাল গ্রামের ফটিক মিয়ার ছেলে।

সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও মামলার আইনজীবী বাহার আহমদ জানান, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে জগন্নাথপুর উপজেলার গলাখাল গ্রামের ফটিক মিয়ার ছেলে নিহত খোকন মিয়া ও তার ভাই মাসুক মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে ফয়েজ মিয়া, আফরোস মিয়ার ছেলে সেবুল মিয়া ও সাজিদ মিয়া এবং বাদশা মিয়ার ছেলে শাহান মিয়ার বিরোধ ছিল। এ ঘটনায় আদালতে মামলা চলছে। মামলা চলাকালেই গত ১২ মে আসামিরা মামলার বাদী মাসুক মিয়ার ছেলেদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় মাসুক মিয়া জগন্নাথপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি ছিল।  

শুনানি শেষে বাদীর ভাই খোকন মিয়া আইনজীবী সহকারী সমিতিতে মামলার তথ্য জানতে এলে সমিতির অফিসের সামনের খোলা জায়গায় আসামি ফয়েজ মিয়া, সেবুল মিয়া, সাজিদ মিয়া এবং শাহান মিয়া তাকে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করতে থাকেন। এ সময় তিন আসামি খোকন মিয়াকে ধরে রাখে এবং শাহান মিয়া ধারালো ছুরি দিয়ে খোকনের গলা, পিট, বুক ও পায়ে আঘাত করতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। শত শত লোকের সামনে এ ঘটনা দেখে ক্ষুব্ধ লোকজন এগিয়ে এসে চারজনকে আটক করেন। তবে মূল হামলাকারী শাহান মিয়া পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। খবর পেয়ে পুলিশ জনতার হাতে আটককৃত তিনজনকে থানায় নিয়ে গেছে। নিহত খোকন মিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি রবিউল লেইছ রোকেস জানান, আমাদের আইজীবী ও জনতা মিলে খুনিদের আটক করেছেন। তবে একজন পুলিশের সামনেই পালিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, আদালত এলাকায় প্রকাশ্যে খুনের ঘটনা ঘটেছে। দোষীদের কঠোর ও দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জয়নাল আবেদীন আসামিদের হাতে বাদী খুনের ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন, তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।



সাতদিনের সেরা