kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

আমতলীতে ঘরে ঘরে ভাইরাস জ্বর, বাড়ছে করোনা আতঙ্ক!

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

২০ জুলাই, ২০২২ ১৯:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমতলীতে ঘরে ঘরে ভাইরাস জ্বর, বাড়ছে করোনা আতঙ্ক!

দিনকে দিন বরগুনার আমতলীতে ঘরে ঘরে ভাইরাস ও সর্দিজ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। করোনা ও ভাইরাস জ্বরের লক্ষণ কাছাকাছি হওয়ায় মানুষের মধ্যে করোনা আতঙ্ক বাড়ছে। তবে উপসর্গ একই হলেও পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসছে। ফলে আক্রান্তরা শুরুতেই ভাইরাস জ্বরের ধরন বুঝতে পারছে না।

বিজ্ঞাপন

চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে প্রচণ্ড কাশি ও সর্দিজ্বরে আক্রান্ত হন পৌর শহরের স্কুলশিক্ষক জসিম উদ্দিন। তিনি রোগ নির্ণয়ের জন্য হাসপাতালে গিয়ে কভিড পরীক্ষা করে দেখেন ফল নেগেটিভ। পরে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করে এক সপ্তাহ পর সুস্থ হন। এরপর তার স্ত্রী ও একমাত্র কন্যাও একই উপসর্গ লক্ষ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার শহর ও গ্রাম-গঞ্জে কাশি ও সর্দিজ্বর, মাথা ব্যথা, শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথা ও গলা ব্যথায় আক্রান্ত হচ্ছে। মুখে অরুচি দেখা দেওয়ায় অনেকেই স্বাভাবিক হতে অনেক সময় নিচ্ছে। বাদ যাচ্ছে না শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক ব্যক্তিরাও। যা এখন প্রতিটি ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে মানুষের মনে এখন করোনা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে (বৃহস্পতিবার থেকে বুধবার) পর্যন্তু হাসপাতালে ৫৫০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে এসেছে। এর মধ্যে ৪৫০ জন রোগী জ্বর, কাশি, মাথা ব্যথা, শরীর ব্যথা, গলা ব্যথা ও মুখে অরুচি দেখা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে শিশু-বৃদ্ধরাও রয়েছে। এ ছাড়া একই উপসর্গে আক্রান্ত অনেক রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াও ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিক, গ্রাম্য চিকিৎসক ও স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে বাড়িতে বসে চিকিৎসা নিচ্ছে।

উপজেলার গাজীপুর বন্দরের নূপুর বেগম জানান, তিন দিন ধরে তার ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের বয়স্ক ব্যক্তিরাও সর্দিজ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। তারা স্থানীয় ফার্মেসি থেকে পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করছেন।

গুলিশাখালীর ডালাচারা গ্রামের মোশারেফ হোসেন মোল্লা জানান, তাদের বাড়িতে প্রথমে তিনি সর্দিজ্বর ও হালকা কাশিতে আক্রান্ত হন। এরপর তার বড় মেয়ে এবং কয়েক দিন পরে ছোট মেয়ে আক্রান্ত হন। তিনি প্রথমে করোনা আতঙ্কে ছিলেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওষুধ সেবন করে এখন সকলেই সুস্থ।  

কথা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা মরিয়মের সাথে। তিনি জানান, তিন দিন ধরে কাশি ও সর্দিজ্বরে ভুগে আজ হাসপাতালে এসেছেন চিকিৎসা নিতে।

হলদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চিলা গ্রামের ইউপি সদস্য ঝন্টু তালুকদার বলেন, ওই গ্রামে এমন কোনো ঘর নেই, সেখানে ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত রোগী নেই। প্রতিটি ঘরে ভাইরাস জ্বরের প্রার্দুভাব ছড়িয়ে পড়েছে। বাদ যাচ্ছে না শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত। সকলের মধ্যে এখন করোনা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ভায়লাবুনিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ প্রভাইডার মাইছুরা বলেন, 'এক সপ্তাহে ধরে আমার ক্লিনিকসহ উপজেলার প্রায় সকল ক্লিনিকে কাশি ও সর্দিজ্বরে আক্রান্ত রোগীরা বেশি চিকিৎসা নিয়েছে। '

আমতলী হুমায়ূন মেডিক্যাল হলের মালিক হুমায়ূন কবির বলেন, এক সপ্তাহ ধরে কাশি ও সর্দিজ্বরে আক্রান্ত রোগীদের ওষুধ বেশি বিক্রি হচ্ছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুল মুনয়েম সাদ মুঠোফোনে বলেন, 'বছরের এই সময়ে সকল ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণও একই সাথে বাড়ছে। গত দুই বছরে অসুস্থতা কম ছিল। কারণ লকডাউন ছিল এবং আমরা সবাই মাস্ক ব্যবহার করেছি। কিন্তু এ বছর আমরা অতটা সচেতন নই এবং মাস্কের ব্যবহারও কমিয়ে দিয়েছি। ফলে দিন দিন সংক্রমণ অনেকাংশে বেড়ে গেছে। '



সাতদিনের সেরা