kalerkantho

বুধবার । ১৭ আগস্ট ২০২২ । ২ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৮ মহররম ১৪৪৪

ভিজিডি কার্ডে ছবি মিনা আক্তারের, সুবিধা নেন রোজিনা আক্তার!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ    

২০ জুলাই, ২০২২ ১৫:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভিজিডি কার্ডে ছবি মিনা আক্তারের, সুবিধা নেন রোজিনা আক্তার!

ছবিটি মিনা আক্তারের, কিন্তু নামের ঘরে রোজিনা আক্তারের নাম লেখা

দুঃস্থ ও অসহায় নারীদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ভিজিডি (ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট) কার্ডে তুঘলকি কাণ্ড ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নে। জানা যায়, বরাদ্দকৃত অনেক কার্ডে ছবি একজনের, নাম আরেকজনের। এমন অবস্থায় বিভিন্ন জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে মাসের পর মাস বরাদ্দ উত্তোলণ করে যাচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি। প্রকৃত দুঃস্থরা না পেয়ে ওই সব বরাদ্দ চলে যাচ্ছে সুবিধাভোগীদের কাছে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমান নতুন পরিষদে এ ধরনের কার্ড জব্দ হচ্ছে।

এমনি একটি কার্ডের সন্ধান মেলে ওই ইউনিয়নের কাঠালিয়া গ্রামে। ১৩৬ নম্বর কার্ড বরাদ্দ হয় মো. মিজানের স্ত্রী মিনা আক্তারের নামে। কার্ডের ছবি তারই। কিন্তু নামের ঘরে তার নাম নেই। সেখানে নাম দেওয়া হয়েছে মো. দুলার মিয়ার স্ত্রী রোজিনা আক্তারের। ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরুর পাঁচ মাস পর ওই কার্ড হাতে পেয়েছেন মিনা আক্তার। পরে ওই কার্ড নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ আনতে গেলে কার্ডটি আটকে দেন চেয়ারম্যান।   

মিনা আক্তার জানান, নিজ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফজলুল হক কার্ড দেওয়ার কথা বলে তার মায়ের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেন। কিন্তু ওই সময় অনেকেই তালিকাভুক্ত হয়ে বরাদ্দ উত্তোলন করলেও তিনি পাননি। একপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ছবিযুক্ত তার কার্ডের বরাদ্দের পণ্য উত্তোলন করে নিচ্ছেন পাশের গ্রামের রোজিনা আক্তার। পরে ওই সময় প্রতিবাদ করলে ওই ইউপি সদস্য তাকে জানান, দুজনের নামে ওই কার্ডটি বরাদ্দ হয়েছে। দুজনই বছরের অর্ধেক সময় করে সুবিধা পাবে। এর মধ্যে পাঁচ মাস পর কার্ডটি তিনি ফিরিয়ে দেন। কিন্তু ততক্ষণে কার্ডটি বাজেয়াপ্ত করেন নতুন ইউপি চেয়ারম্যান।  

এদিকে, কার্ডে নামধারী রোজিনা আক্তারের খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রোজিনাও ওই মেম্বারকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছেন। তাই কার্ডটির প্রথম সুবিধা তিনি নেন। এভাবেই রোজিনার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন ওই মেম্বার।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাবেক ওই মেম্বার ফজলুল হক বলেন, আমি এবার মেম্বার না। তাই প্রতিপক্ষরা মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছে। কার্ডে নাম একজনের, আর ছবি আরেকজনের কেন জানতে চাইলে মেম্বার বলেন, তালিকায় সকলকে রাখা সম্ভব না। তাই দুজনকেই খুশি করার জন্য এই পন্থা। তবে টাকা নেওয়ার কথা তিনি অস্বীকার করেন।

জানতে চাইলে সোহাগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির বলেন, এ ধরনের অনেক কার্ড আমি আটকে দিয়েছি। কারা কীভাবে করলেন তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ  করবো।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ-জহুরা জানান, এ বিষয়টি তার সময়ে হয়নি। তারপরও খোঁজ নিয়ে সঠিক কার্ডধারীর হাতে কার্ডটি তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।



সাতদিনের সেরা