kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

'বেড়িবাঁধ ভেঙে গেল রে...', সব হারানোর আতঙ্কে গ্রামবাসী

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি    

১৭ জুলাই, ২০২২ ১৪:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'বেড়িবাঁধ ভেঙে গেল রে...', সব হারানোর আতঙ্কে গ্রামবাসী

আজ রবিবার (১৭ জুলাই) ঘড়ির ঘণ্টার কাঁটায় তখন ভোর ৪টা ছুঁই ছুঁই। কপোতাক্ষে তখন ভাটার টান। সুন্দরবনের উপকূলীয় জনপদ খুলনার কয়রার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নে হঠাৎ যেন 'নরক' নেমে এলো। চরামুখা গ্রামে খালের গোড়ার উত্তর পার্শ্ব এলাকায় কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে ফাটল দেখতে পান স্থানীয় জেলে রফিকুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

বেড়িবাঁধের ওপর দাঁড়িয়েই তিনি হাঁক ছাড়েন 'বেড়িবাঁধ ভেঙে গেল রে...'। তার হাঁক-ডাকে পার্শ্ববর্তী মৎস্যঘের থেকে বেরিয়ে আসেন কয়েকজন। তাদের সামনেই কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ভয়াবহ ভাঙনে প্রায় ৩শ হাত বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।  

স্থানীয়রা বাঁধের ভাঙন দেখে সহায়-সম্পত্তির ক্ষতির শঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। মসজিদের মাইকে গ্রামবাসীকে ঝুড়ি আর কোদাল নিয়ে বেড়িবাঁধে আসার জন্য আহ্বান জানান চরামুখা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মো. মাসুদ রানা।

চরামুখা খালের গোড়ার উত্তর পার্শ্বসংলগ্ন কপোতাক্ষ নদে বাঁধের ওপর ফেলে রাখা বালুভর্তি বস্তা স্থানীয়দের সামনেই ধসে নদে বিলীন হয়ে যায় মুহূর্তেই। নদে তখন ভাটার টানে পানি কম থাকায় কয়েকটি মৎস্যঘের প্লাবিত হলেও লোকালয়ে তখনো পানি প্রবেশ করতে পারেনি। এলাকার শতাধিক মানুষ সকাল থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ রক্ষায় তেরপল, প্লাস্টিকের বস্তায় ভরা মাটি-বালু, বাঁশ ও অন্যান্য গাছ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে ভাঙন আটকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু দুপুরের জোয়ারের পানি বৃদ্ধি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।  

কয়রায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ১৪/১ নম্বর পোল্ডারের এই ভাঙনে প্রায় আড়াই হাজার বিঘার চিংড়ির ঘের ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়নটির চরামুখা, ঘড়িলাল, সরদারপাড়া ও দক্ষিণ বেদকাশী গ্রামে নদীর লোনা পানি প্রবেশ করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে  প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারের বসতভিটা।   

গ্রামবাসী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানের বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। বাঁধ রক্ষায় স্থানীয় মানুষ গত কয়েক দিন স্বেচ্ছায় কাজও করেছেন। শেষ পর্যন্ত তা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। আজ রবিবার ভোররাতে বাঁধটি ভেঙে যায়।

স্থানীয় দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল জানান, ভাঙন রোধে অবিলম্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে নদীর তীরবর্তী জনপদের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বাঁধটি মেরামতের দাবি জানান তিনি।

পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মশিউল আবেদীন বলেন, বাঁধটি যে পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, চাইলেও দ্রুত মেরামত সম্ভব নয়। নদীতে জোয়ারের তীব্রতা কমলে কাজ করা সম্ভব হবে।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিমেষ বিশ্বাস জানিয়েছেন, প্লাবিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত বাঁধ মেরামতের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা