kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

উদ্ধার হলো সরকারি সড়ক, দুর্ভোগ কাটল তিন গ্রামের মানুষের

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি    

১৭ জুলাই, ২০২২ ১২:৩৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উদ্ধার হলো সরকারি সড়ক, দুর্ভোগ কাটল তিন গ্রামের মানুষের

বগুড়ার শেরপুরে তিন যুগ ধরে অবৈধভাবে বেদখল হয়ে থাকা জনসাধারণের চলাচলের দেড় কিলোমিটার সরকারি সড়ক উদ্ধার হয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবরিনা শারমিন গত বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাপজোখ করে ওই সড়কটি উদ্ধার করেন। সেই সঙ্গে উদ্ধার করা সড়কে সীমানা ঘেঁষে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, সড়ক উদ্ধার হওয়ায় দুই ইউনিয়নের তিন গ্রামের মানুষ আনন্দে ভাসছেন।

বিজ্ঞাপন

এমনকি এসব গ্রামের অন্তত পাঁচ সহস্রাধিক মানুষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। কারণ এই সড়কটি ঘিরে প্রায় চল্লিশ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থীদের চলাচলের সুবিধার জন্য এই বিরোধ সমাধানে এগিয়ে আসেন উপজেলা সহকারী কমিশনার। গ্রামবাসীও বিরোধ ভুলে তাকে সহায়তা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের কাশিয়াবালা এবং সুঘাট ইউনিয়নের চকসাদি ও বিনোদপুর গ্রাম পাশাপাশি। ওই তিন গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলের দেড় কিলোমিটারের গ্রামীণ সড়ক দীর্ঘ চল্লিশ বছর আগে কেটে নিজ নিজ আবাদি জমির মধ্যে নিয়ে নেন স্থানীয় কৃষকরা। পরবর্তী সময়ে ওই সড়ক বের করা নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। একপর্যায়ে তারা রাস্তার প্রয়োজন অনুভব করতে শুরু করেন। উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নিকট হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী। আর সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসিল্যান্ড উদ্যোগ নিয়ে সরকারি সড়কটি উদ্ধার করেন।  

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের সড়ক না থাকায় ছিল দুর্ভোগ। জমি থেকে ধান কেটে ঘরে নেওয়ার ছিল না কোনো পথ। জমির ধার দিয়েই ফসল মাথায় করে পাড়ি দিতে হতো দেড় কিলোমিটার পথ। শিক্ষার্থীরাও বিদ্যালয়ে যেত পথ ঘুরে, অথবা জমির ধার দিয়ে কষ্ট করে। অথচ সরকারিভাবে রাস্তার জায়গা ছিলই, তবে বেদখল। স্থানীয় কিছু ব্যক্তি সেই জায়গা দখল করে বছরের পর বছর ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে তারা পরবর্তী সময়ে রাস্তায় প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে উপজেলা সহকারী কমিশনারের কাছে আবেদন করেন।

মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ বছর ধরে রাস্তা না থাকায় দুর্ভোগে ছিলেন মির্জাপুর ও সুঘাট ইউনিয়নের তিন গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার বাসিন্দা। জমি থেকে ফসল কেটে ঘরে তুলতে কৃষকদের অনেক কষ্ট হতো। এ ছাড়া বিদ্যালয়ে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হতো শিক্ষার্থীদের। এখন কৃষক ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ থাকল না।

উপজেলার চকসাদি গ্রামের বাসিন্দা বাবলু সরকার জানান, তাদের দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে কেউ এগিয়ে আসেননি। কিন্তু এসি ল্যান্ড নিজ উদ্যোগে তাদের রাস্তার জায়গা বের করে দিয়েছেন।

একই গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সড়কটি অবৈধভাবে দখলে নিয়ে নিজেদের জমির মধ্যে নিয়ে নেওয়া হয়। এর পর থেকেই ওই সড়কের আর কোনো হদিস ছিল না। অবশেষে এসি ল্যান্ড  রাস্তাাটি উদ্ধার করলেন। এখন তাদের দুর্ভোগ কেটে গেল।

চকসাদি কাশিয়াবালা দাখিল মাদরাসার সুপার মো. রুহুল আমিন জানান, রাস্তা না থাকায় শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট হতো। তারা জমির আইল দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসত। বর্ষাকালে শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগে পড়ত। রাস্তার জায়গা উদ্ধার হওয়ায় শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর দুর্ভোগ কেটে গেল।

জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবরিনা শারমিন বলেন, উপজেলার মির্জাপুর ও সুঘাট ইউনিয়নের কাশিয়াবালা, চকসাদি ও বিনোদপুর মৌজায় দেড় কিলোমিটার সরকারি সড়ক বেদখল ছিল। রাস্তাটি না থাকায় গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হতো। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেও রাস্তার বিষয়ে কোনো সমাধান করতে পারেননি। গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে রাস্তাটি উদ্ধার করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা