kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

শেবাচিম হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আগুন আতঙ্ক

বরিশাল অফিস   

১৭ জুলাই, ২০২২ ০১:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শেবাচিম হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আগুন আতঙ্ক

বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে শনিবার বিকেলে ও রাতে দুই দফা আগুন আতঙ্কে রোগী, স্বজন, ডাক্তার, নার্সরা আতঙ্কিত হয়ে নিচে নেমে আসে। শনিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৪টায় হাসপাতালের নিচতলার এফ ব্লকে ও রাত সাড়ে ১০টার দিকে চতুর্থ তলার অর্থোপেটিক্স (ফিমেল) ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, শনিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে হাসপাতালের নিচতলার লিফটের পাশে পরিচালকের কক্ষে যাওয়ার গেটে বিদ্যুৎ লাইনের নিয়ন্ত্রণ বক্সে শর্ট সার্কিটে এ ঘটনা ঘটে। এতে পুরো হাসপাতালে আগুন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় রোগী ও তার স্বজনরা নিচে নেমে আসে।

বিজ্ঞাপন

পরে হাসপাতালের স্টাফরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে নিচে নেমে আসা রোগী ও স্বজনদের পুনরায় স্ব-স্ব ওয়ার্ডে চলে যায়।

অন্যদিকে রাত ১০টার দিকে হাসপাতালের চতুর্থ তলায় অর্থোপেক্সি (ফিমেল) ওয়ার্ডের রাখা অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডারের নজেলের মুখ থেকে গ্যাস বের হলে ওই ওয়ার্ডের রোগী, স্বজন এবং দায়িত্বরত নার্সরা আগুন আতঙ্কে ওয়ার্ড থেকে বের হয়ে যায়। এ ঘটনায় পুরো হাসপাতালে আগুন আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ওয়ার্ডে ফিরিয়ে আনেন।

হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডের স্ক্যানু বিভাগের সেবিকা শিবানী হালদার বলেন, বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ করে আগুন আগুন বলে চিৎকার শুনতে পেয়ে নবজাতকদের নিয়ে দৌঁড়ে হাসপাতালের বাইরে চলে এসেছি। বের হয়ে জানতে পারি নিচতলায় আগুন লেগেছে।

হাসপাতালের দায়িত্বরত আনসার সদস্য জানান, রাত ১০টার দিকে চারতলায় আগুন লেগেছে এ বলতে বলতে হুড়োহুড়ি বিভিন্ন ওয়ার্ডের রোগী, স্বজন ও নার্সরা হাসপাতালে বাহিরে বের হয়ে আসে।

পরবর্তীতে জানতে পেরেছি চারতলায় আগুনের ঘটনা ঘটেনি। অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের হয়েছে। এসে ওয়ার্ডে থাকা রোগী, স্বজন এবং নার্সরা হুরোহুরি করে বের হয়ে আসতে দেখে অন্যসব ওয়ার্ডে থাকা রোগী ও স্বজনরা হাসপাতালের বাহিরে বের হয়ে আসে।   

হাসপাতালের পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, প্রশাসনিক ভবনের পাশে শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লাগে। আমাদের স্টাফরা সবাই ফায়ার সার্ভিসের ট্রেনিংপ্রাপ্ত হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া রাতে চতুর্থ তলায় অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের হওয়ায় ওই ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে আগুন আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। উভয় ঘটনাই রোগী এবং তাদের স্বজনরা ভয়ে হাসপাতালে বাহিরে বেড় হয়ে এসেছিল। পরে তারা আবার স্ব-স্ব ওয়ার্ডে ফিরে যায়। ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সামান্য দুইটি ঘটনায় কিভাবে পুরো হাসপাতালে আগুন আতঙ্ক ছড়িয়ে পরলো তার খতিয়ে দেখার জন্য আজ (রবিবার) তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

পরিচালক আরো বলেন, হাসপাতালে অভ্যন্তরীণ লাইন দীর্ঘ বছরের পুরনো। তাই প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। লাইন সংস্কারের জন্য একাধিকবার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েও কোনো ফল পাচ্ছি না। বিষয়টি পুনরায় মন্ত্রণালয়ে জানানো হবে এবং পুরাতন বৈদ্যুতিক তার পাল্টে নতুন তার দিলে সমস্যার সমাধান হবে।



সাতদিনের সেরা