kalerkantho

মঙ্গলবার। ৯ আগস্ট ২০২২ । ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১০ মহররম ১৪৪৪

মির্জাপুরের দেওহাটা-চড়পাড়া সড়কের বাতি জ্বলে না

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি    

৫ জুলাই, ২০২২ ০৯:৩৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মির্জাপুরের দেওহাটা-চড়পাড়া সড়কের বাতি জ্বলে না

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের (পুরাতন) দেওহাটা থেকে পুষ্টকামুরী চড়পাড়া পর্যন্ত পৌনে চার কিলোমিটার সড়কের উভয়পাশের শতাধিক সড়কবাতি জ্বলছে না। এসব বাতি না জ্বলায় মহাসড়কের এই পৌনে চার কিলোমিটার এলাকায় ভুতুড়ে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

২০২০ সালে দেওহাটা থেকে চড়পাড়া পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৯২টি সড়কবাতি স্থাপন করা হয়। সড়কটির তিন কিলোমিটার এলাকায় মির্জাপুর পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত।

বিজ্ঞাপন

মির্জাপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের (পুরাতন) দেওহাটা থেকে পুষ্টকামুরী চড়পাড়া পর্যন্ত পৌনে চার কিলোমিটার এবং মির্জাপুর-উয়ার্শী সড়কের দেওলী ব্রিজ এলাকায় ৪১০ মিটার সড়কের উন্নয়ন কাজের টেন্ডার আ্হবান করে। এই উন্নয়নকাজের ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১০ কোটি টাকা। টেন্ডারের মাধ্যমে যশোরের মাইনউদ্দিন বাশির মালিকানাধীন এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। ২০১৯ সালে কাজটি শুরু হয় এবং ২০২০ সালের জুন মাসে শেষ হয়। সড়কের দু'পাশে ড্রেন নির্মাণ করা হয়। ড্রেনের ওপর ঢালাই (ঢাকনা) দিয়ে টাইলস স্থাপন করে তিন ফুট প্রশস্ত ফুটপাথ তৈরি করা হয়। রাতে আলোকিত করতে লোহার পাইপে মহাসড়কের পৌনে চার কিলোমিটার রাস্তার দু'পাশে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৯২টি রঙিন বাতি স্থাপন করা হয়, যার প্রতিটির পেছনে খরচ হয়েছে ৩১ হাজার ২৫০ টাকা।  

ওই প্রকল্পের এই বাতি স্থাপনের আগে মির্জাপুর পৌরসভা থেকে মহাসড়কের দুই পাশে বাতি বসানো হয়েছিল। প্রকল্পের বাতি স্থাপনের পর পৌর কর্তৃপক্ষ তাদের সড়কবাতির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখে। প্রকল্পটির অধীনে এসব বাতি স্থাপনের পর ২৪ মাসের মধ্যেই প্রায় সবগুলোই বন্ধ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।  

এতে এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির বাতি বন্ধ থাকায় রাতে মাদক বিক্রি ও ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধ সংঘঠিত হয় বলে এলাকার লোকজন জানিয়েছেন।

আজ রবিবার রাতে মহাসড়কের দেওহাটা থেকে পুষ্টকামুরী চড়পাড়া পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব বাতি বন্ধ। যেসব বাতি জ্বলছে সেখানে একটু আলোকিত, আবার যেসব বাতি জ্বলছে না সেখানে ভুতুড়ে অন্ধকার। পুষ্টকামুরী এলাকায় পৌর কর্তৃপক্ষ পুনরায় কয়েকটি বাতি স্থাপন করে।   

এসময় উপজেলা পরিষদের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের প্রবেশমুখ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসা হয়ে বারোখালী ব্রিজের পূর্ব পাড় পর্যন্ত এবং ব্রিজের পশ্চিম পাড় হতে বাইমহাটী ছাপড়া মসজিদ পর্যন্ত খুঁটির বাতি বন্ধ দেখা যায়। ওই এলাকায় রাস্তা রয়েছে অন্ধকারে। এতে সড়কটিতে মাদক বিক্রি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া ডাকাতির ঘটনাও ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।  

মির্জাপুর বাজারের বাসিন্দা আরাফাত রহমান তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, চড়পাড়া থেকে পুরাতন বাস স্ট্যান্ড হয়ে দেওহাটা পর্যন্ত আলোকিত ছিলো কিছুদিন আগেও...‼ বেশ কদিন ধরেই এই রাস্তায় ভুতুড়ে অবস্থা, লাইট নাই, অন্ধকার...‼ বড় ধরনের দুর্ঘটনা হলে এই দায় কে নেবে?  কোনো ধরণের দুর্ঘটনার আগেই বিষয়টা ভাবার জন্য অনুরোধ রইলো...‼।

মির্জাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ২০০০ সালে মির্জাপুর পৌরসভা গঠনের পর রাস্তায় আলোর ঝলকানি দেখতে পাই। দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় বিদ্যুতের আলোয় রাস্তায় চলাফেরা করি। মহাসড়কে হঠাৎ আলো বন্ধ হয়ে গেলে মানুষের চলাফেরায় ভোগান্তি পোহাতে হয়। শুধু ভোগান্তি নয়, ভয়ও কাজ করে। কখন কোন বিপদ সামনে আসে। অন্ধকারে কখন কী দুর্ঘটনা ঘটে, তার ঠিক নেই। সড়কবাতি থাকলে এ সমস্যা হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।   

মির্জাপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পৌরসভার উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড এলাকায় মহাসড়কের পাশে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করে বাতি জালানোর ব্যবস্থা ছিল। নষ্ট হলে মেরামত করা হতো। সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে সড়কবাতি স্থাপন করায় পৌরসভার বাতিগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এখন সড়ক ও জনপথের বাতিগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। মাঝে মধ্যে কয়েকটি জ্বললেও প্রায় সব বাতিই বিকল হয়ে আছে।    

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মাইনউদ্দিন বাশির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।  

সড়ক ও জনপথ মির্জাপুর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, রাস্তার দু'পাশে ড্রেনের কাজ চলমান থাকায় লাইটের খুঁটিগুলো নাড়াচাড়া করা হচ্ছে। এছাড়া প্রধান সুইচ শক সার্কিট হওয়ায় বাতিগুলো বন্ধ রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের সহায়তায় বাতিগুলো জ্বালিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।



সাতদিনের সেরা