kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

স্কুলছাত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

৪ জুলাই, ২০২২ ১৯:০১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



স্কুলছাত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

নিহতের পরিবারের আহাজারি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর বাজারে সোমবার বিদ্যুৎস্পর্শে মো. আরমান মিয়া (১৭) নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আঁখি আক্তার (১৪) নামে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে আরমান মারা যায় বলে জানা গেছে।

আরমান মিয়া পানিশ্বর ইউনিয়নের শাখাইতি গ্রামের আকবর হাটির মৃত এলাই মিয়ার ছেলে ও পানিশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আহত আঁখি আকবর হাটির বিল্লাল মিয়ার মেয়ে এবং একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

বিজ্ঞাপন

 

আহত আঁখি আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য আরমানের লাশ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম পানিশ্বর দক্ষিণ বাজারের একটি ভবনে কোচিং সেন্টার খুলে শিক্ষার্থীদের পড়ান। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি সেখানে একটি ব্যাচ পড়ানোর সময় পরের ব্যাচের শিক্ষার্থীরা জড়ো হচ্ছিল। তাদেরই মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী কোচিং ভবনের ছাদে ওঠে। এর মধ্যে আঁখি আক্তার ছাদের ওপরের বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় আঁখিকে বাঁচাতে ছুটে যায় আরমান। তখন আরমান বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যায়।

আহত আঁখি আক্তারের সঙ্গে থাকা তার মামা আক্তার হোসেন জানান, প্রাইভেট পড়তে গিয়ে ভাগ্নিসহ চার-পাঁচ শিক্ষার্থী কোচিং ভবনের ছাদে ওঠে। সেখানে আঁখি বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে গেলে আরমান বাঁচাতে গিয়ে নিজেই বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যায়।

কোচিং সেন্টারের শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তিনি পানিশ্বর দক্ষিণ বাজারের একটি ভবনের দোতালা ভাড়া নিয়ে সেখানে শিক্ষার্থীদের পড়ান। শিক্ষার্থীদের কয়েকজন নিজেদের উদ্যোগেই ছাদে যায়। সেখানেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম হোসেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহত আরমানের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা