kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

শিক্ষক উৎপল হত্যা : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় স্বজনরা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

২ জুলাই, ২০২২ ২০:১২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিক্ষক উৎপল হত্যা : নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় স্বজনরা

আশুলিয়ায় শিক্ষার্থীর মারধরে নিহত প্রভাষক উৎপল কুমার সরকার হত্যাকাণ্ডের পর মামলার বাদী ও তার স্বজনরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। উৎপলের সাথে একই এলাকায় থাকতেন তার বড় দুই ভাই। তাদেরও কর্মস্থল ওই এলাকাতেই। বাকি দুই ভাইও ঢাকার অন্য এলাকায় চাকরি করেন।

বিজ্ঞাপন

মামলায় বাদীও হয়েছেন এক ভাই। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাই অজানা শঙ্কায় ভুগছেন তারা।

উৎপলের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের চলনবিল অধ্যুষিত দত্তপাড়া এলংজানী গ্রামে। বর্তমানে তার বড় ভাইয়েরা এবং স্ত্রী গ্রামের বাড়িতেই রয়েছেন। সরেজমিনে ওই বাড়িতে গেলে এ প্রতিবেদকের কাছে নানা শঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতার কথা জানান উৎপলের স্বজনরা।

নিহতের তৃতীয় ভাই অসিত কুমার সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, 'উৎপল ওই কলেজে চাকরি নেওয়ার পর আমাকে ও মেজো ভাই অসিমকে ঢাকায় নিয়ে যায়। তার কলেজের পাশেই হাকিম মার্কেটে ‘দীপ্ত টেইলার্স’ নামে আমাকে একটি দোকান করে দিয়েছে। যার স্বত্বাধিকারী ছিল উৎপল নিজেই। আর মেজো ভাই অসিম পাশেই একটি টেইলার্সে চাকরি করেন। ছোট ভাইয়ের সাহসেই আমরা তিন ভাই ওই এলাকায় থাকতাম। ওরা আমার ছোট ভাইকে মেরে ফেলেছে। শুনেছি হত্যাকারীরা প্রভাবশালী। ওই এলাকাতে গিয়ে আমরা এখন কিভাবে ব্যবসা করব, কে আমাদের নিরাপত্তা দেবে? আমরা সরকারের কাছে নিজেদের নিরাপত্তা এবং ভাই হত্যার বিচার চাই। '

মামলার বাদী উৎপলের মেজো ভাই অসিম কুমার সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ছোট ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কেননা মারধরের সময় স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগ ও সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় ওই এলাকায় থেকে মামলা পরিচালনা করতে ভয় পাচ্ছি। আমরা এখন কী করব, সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। আশা করি সরকার আমাদের নিরাপত্তা দেবে। ' দ্রুত বিচার আইনে ভাই হত্যার বিচার চান তিনি।

ঘটনার পর অভিযুক্ত বখাটে শিক্ষার্থী ও তার বাবা গ্রেপ্তার হয়েছেন, এটা ঠিক। কিন্তু উৎপলের স্ত্রী বিউটি রানি নন্দীর আশঙ্কা, তারা একা এমন ঘটনা ঘটায়নি। অন্য আরো কারো হাত থাকতে পারে। তাদেরও আইনের আওতায় আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করে হত্যাকারীদের ফাঁসি ও দ্রুত বিচার দাবি করেন তিনি।

অশীতিপর বৃদ্ধা উৎপলের মা গীতা রানি সরকার (৮৫) সরকার এখনো শোকে কাতর। তিনিও ছেলের হত্যাকারীর ফাঁসি দাবি করেছেন।

উৎপলের বড় ভাবি ইতি রানি সরকার দ্রুত বিচার আইনে দেবরের হত্যাকারীর শাস্তি দাবি করে বখাটে ছেলের জন্ম দেওয়ার জন্য তার বাবারও শাস্তি দাবি করেন। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।



সাতদিনের সেরা