kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

চান্দিনায় এক মাসে ২১ ডাকাতি!

চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

১ জুলাই, ২০২২ ১৯:৪৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চান্দিনায় এক মাসে ২১ ডাকাতি!

কুমিল্লার চান্দিনায় ডাকাতের উপদ্রবে অতিষ্ঠ জনগণ। সড়ক, মহাসড়ক ও গৃহডাকাতি যেন সমান তালে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। ডাকাতদের নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যত কোনো ভূমিকা না থাকায় আতঙ্কে রাত যাপন করছে এ উপজেলার মানুষ। গত এক মাসে চান্দিনায় অন্তত ১৪টি গৃহডাকাতি, তিনটি সড়ক ডাকাতি ও সাতটি মহাসড়ক ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

ডাকাতি রোধে বিভিন্ন এলাকায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে জনগণ।  

উপজেলার গোবিন্দপুর, হারং, কুটুম্বপুর, মীরগঞ্জ, এতবারপুর, মাইজখার, কামারখোলা ও হাড়িপাড়া গ্রামে গত এক মাসে ১৪টি পরিবারে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া হারং উদালিয়া ব্রিজ এলাকায় তিনটি সড়ক ডাকাতি ও মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলার হাড়িখোলা, তীরচর ও কুটুম্বপুর এলাকায় রড ছুড়ে সাতটি গাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। মহাসড়কের কয়েকটি ঘটনা ভুক্তভোগীরা পুলিশকে অবহিত করলেও বাকিরা অসহায় হয়ে স্থান ত্যাগ করে।  

পুলিশ হাতে গোনা কয়েকজন নামে-বেনামে ডাকাতকে আটক করলেও তালিকাভুক্ত শীর্ষ কোনো ডাকাত চক্রকে এখনো আটক করতে সক্ষম হয়নি। এমনকি ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া কোনো মালামালও উদ্ধার করতে পারেনি চান্দিনা থানা পুলিশ। তবে ডাকাতির ঘটনায় চান্দিনা থানার এক উপপরিদর্শককে থানা থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনসে সংযোগ করা হয়েছে। এসব ডাকাতির ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মামলা না করে নীরব থাকার পরামর্শ দেয় চান্দিনা থানা পুলিশ।  

বুধবার দিনগত রাতে উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের হাড়িপাড়া ও কামারখোলা গ্রামের ছয়টি পরিবারে গৃহডাকাতি করে সশস্ত্র ডাকাতদল। এ সময় নগদ টাকাসহ অন্তত ২০ লাখ টাকার মামামাল লুট, পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লুটে নেয় ডাকাতদল।  

হাড়িপাড়া গ্রামের শাহ আলম জানান, আমি দুবাইপ্রবাসী। ছুটিতে বাড়ি আসি। বুধবার দিনগত রাত ২টায় ডাকাতদল আমার বাড়ির গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে নগদ ৬০ হাজার টাকা, ২টি মোবাইল ফোন, আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার লুটে নেয়।  

কামারখোলা গ্রামের পূর্বপাড়া আব্দুল মান্নান ভূইয়ার বাড়িতে চারটি পরিবারে ডাকাতির ঘটনায় নগদ  তিন লাখ ৮২ হাজার টাকা, সাড়ে ১২ ভরি স্বর্ণাংকার, ছয়টি মোবাইল ফোন, বিমান টিকিট যুক্ত দুটি পাসপোর্টসহ মূল্যবান মালামাল লুটে নেয়।  

কামারখোলা গ্রামের ইমাম হোসেন জানান, আমার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনার পর চান্দিনা থানা পুলিশ এসে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আমাকে মামলা না করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, মামলা করলে ডাকাতদল গা ঢাকা দেবে, আমরা তাদেরকে ধরতে পারব না। তার চেয়ে ভালো আপনারা নীরব থাকেন, তাহলে আমরা সুন্দরভাবে কাজগুলো চালিয়ে যেতে পারব এবং আসামি ধরা সহজ হবে।   

এ ছাড়া গত মঙ্গলবার (২১ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে ১০-১২ জনের সশস্ত্র মুখোশধারী ডাকাত হারং এলাকার নূরুজ্জামান সরকারের বাড়ির কলাপসিবল গেটের তালা কেটে ঘরে ঢুকে তাকে ও তার স্ত্রীকে গলায় রামদা ঠেকিয়ে হাত ও মুখ বেঁধে ফেলে। পরে ঘরের ভেতরে থাকা আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও  মোবাইল ফোন লুটে নেয়। এরপর তাদের  ভাড়াটিয়া লাভলী আক্তারের ঘরে একই কায়দায় প্রবেশ করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। একই রাতে উপজেলার এতবারপুর গ্রামে মো. খোকনের বাড়িতে ডাকাতি হয়। রাত পৌনে ২টায় ঘরের দরজা ভেঙে মুখোশধারী দুজন ডাকাতির ঘটনা ঘটায়।

ফেনী সদর উপজেলার বিল্লাল হোসেন জানান, আমি গত বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে প্রাইভেটকারযোগে বাড়ি ফিরছিলাম। রাত অনুমান সোয়া ১টায় কুটুম্বপুর এলাকায় আমার বাড়িতে বিকট শব্দ হওয়ায় চালক গাড়ি থামায়। আমার গাড়ি থামাতেই ৬-৭ জন অস্ত্রধারী ডাকাত গাড়িতে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে শুরু করে। এ সময় আমার সঙ্গে থাকা নগদ ১২ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আমার হাতের মোবাইলটি নিচে ফেলে দেওয়ার কারণে সেটি নিতে পারেনি এবং গাড়িচালকের মোবাইলটি ছোট টাইপ মোবাইল হওয়ায় সেটিও নেয়নি।  

এ ব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, এসব ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। আসামি কয়েকজনকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।  



সাতদিনের সেরা