kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

আগেভাগেই জমে উঠেছে আনোয়ারার পশুর হাট

সুমন শাহ, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)   

১ জুলাই, ২০২২ ১৯:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আগেভাগেই জমে উঠেছে আনোয়ারার পশুর হাট

এ বছর আগেভাগেই জমে উঠেছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পশুর বাজার আনোয়ারা সরকার হাট। বাজারটিতে আনোয়ারা ছাড়াও বাঁশখালী, পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতাকানিয়া, কর্ণফুলী, কক্সবাজার জেলার পেকুয়াসহ চট্টগ্রাম নগর থেকে ক্রেতারা এসে কোরবানির পশু ক্রয় করে। এ ছাড়া পাইকারি ব্যবসায়ীরাও কোরবানের পশু কিনতে চলে আসেন এ বাজারে।

শুক্রবার হাট ঘুরে দেখা গেছে, গরু, ছাগলের পাশাপাশি বাজারে এসেছে প্রচুর মহিষ।

বিজ্ঞাপন

বেচাকেনাও ভালো। তবে এটি আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এখানে কোরবানির বাজার ছাড়াও সারা বছর ছাগল বিক্রি হয়। খুচরা বিক্রেতারা সরকার হাট থেকে ছাগল কিনে বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করেন। এ হাটের পাইকারি ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছাগল কিনে মজুদ করে রেখেছেন। বাজারও বেশ জমে উঠেছে।

জানা গেছে, সারা বছর সরগরম থাকে সরকারহাট পশুর বাজার। সপ্তাহের সোম ও শুক্রবার বাজারের নির্ধারিত দিন ছাড়াও এখন সপ্তাহজুড়েই চলছে পশু বেচাকেনা। কোরবানির ঈদের দশ দিন আগ থেকেই শুরু হয়েছে এ বেচাকেনা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১১ ইউনিয়নে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে প্রায় ৩০টি হাটে গবাদি পশু বেচাকেনা হয়। এসব হাট থেকে স্থানীয় ক্রেতারা ছাড়াও ব্যাপারীরা গরু, ছাগল ও মহিষ ক্রয় করে চট্টগ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে বিক্রি করেন। উপজেলার ছোট-বড় মিলে শতাধিক খামার রয়েছে। এসব খামারে এবার ৬৩ হাজার ৬৬৬টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। যার মধ্যে ৪৭ হাজার ২৮১টি গরু, দুই হাজার ৬৩০টি মহিষ, ১৪ হাজার ছাগল আর ২৫০টি ভেড়া রয়েছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকেও এসব হাট-বাজারে কোরবানির পশু নিয়ে আসে ব্যাপারীরা। এতে করে এ বছর পশুর দাম ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে থাকবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজারে আসা গরু বিক্রেতা রাসেল জানান, বাজারের পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে কোরবানি উপলক্ষে অনেক গরু বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। একেকজন পাইকারি ব্যবসায়ী দেড় থেকে দুই শ গরু এনে রেখেছেন। বিশেষ করে বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, চকরিয়া, পেকুয়াসহ গরুর খামারিরাও সরকার হাট এসে গরু বিক্রি করেন।

ইজারাদার মোহাম্মদ হেলাল বলেন, সরকার হাটে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা গরু বিক্রি করতে আসেন এবং এ হাট থেকে অনেক ব্যাপারীরা পাইকারি দামে গরু কিনে বিভিন্ন হাট-বাজারে নিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, 'ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে কেউ যেন প্রতারিত না হয়, সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিনও রাখা হয়েছে এ বাজারে। আমরা ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি। আশা করি, বিক্রেতারা স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করতে পারবেন। '

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নইফা বেগম বলেন, আনোয়ারায় কোরবানিদাতারা কোরবানির পশু নিয়ে সংকটে পড়ার আশঙ্কা নেই। স্থানীয় খামারিদের পশু ছাড়াও কিছু ব্যাপারী বিভিন্ন জেলা থেকে কোরবানির পশু নিয়ে আসেন বাজারে।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে উপজেলায় ৩০টি পশুর হাট বসে। এসব হাটে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিনও রাখা হয়েছে এ বাজারে। ক্রেতা-বিক্রেতারা যেন প্রতারিত হতে না পারে সে জন্য মোবাইল কোর্ট টহলে থাকবে।



সাতদিনের সেরা