kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

বরিশালের বানারীপাড়া

ছাত্রীকে উত্ত্যক্তসহ অভিযোগের পাহাড় মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি    

১ জুলাই, ২০২২ ১৪:৩১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ছাত্রীকে উত্ত্যক্তসহ অভিযোগের পাহাড় মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে

বরিশালের বানারীপাড়ায় আহম্মদাবাদ বেতাল হোসাইনিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আ. হালিমের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের দুই লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত মাদরাসার গভর্নিং বডির সভায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গঠিত দাতা সদস্য ইয়ার হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের নিরীক্ষা কমিটি সরেজমিনে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। মাদরাসার গভর্নিং বডির নতুন সভাপতি উপজেলা কৃষকলীগের আহ্বায়ক এম এ ওহাবের বরাবরে দেওয়া ওই তদন্ত প্রতিবেদনে অধ্যক্ষ আ. হালিমের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ১৩টি খাতে মোট দুই লাখ ৫৪৫ টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। এ ছাড়া পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জানুয়ারি ছয় মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত হওয়াসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে প্রতিষ্ঠান রক্ষা করতে অধ্যক্ষ মাওলানা আ. হালিমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

 

মাদরাসার শিক্ষক মিলনায়তনে গভর্নিং বডির সভাপতি এম এ ওহাবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় সদস্য ও সাবেক সভাপতি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আক্তার হোসেন মোল্লাসহ কমিটির অন্য সদস্যরা, শিক্ষক ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।  

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি গভর্নিং বডির দাতা সদস্য মো. ইয়ার হোসেনকে আহ্বায়ক, অভিভাবক সদস্য জসিম উদ্দিন, প্রভাষক কাজী হারুন-অর-রশিদ, প্রভাষক শফিকুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক সুলতান হোসেন মৃধাকে সদস্য করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট নিরীক্ষা কমিটি গঠন করেছিল। এর আগে ২০১২ সালে সাবেক সভাপতি আলমগীর হোসেনকে আহ্বায়ক করে তৎকালীন গভর্নিং বডির গঠিত পাঁচ সদস্যের নিরীক্ষা কমিটি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ৯ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছিল। তখন অধ্যক্ষ মাওলানা আ. হালিম আত্মসাৎকৃত ওই টাকা ফেরত দেওয়াসহ ভবিষ্যতে আর কখনো হিসাবে ত্রুটি করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু তিনি আবারও অনিয়ম করলে গভর্নিং বডির সদস্য এনায়েত হোসেন মোল্লাকে আহ্বায়ক করে গঠিত পাঁচ সদস্যের নিরীক্ষা কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে ২০২১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর দুই লাখ ৩১ হাজার ৪০৫ টাকার গরমিল পেলে অধ্যক্ষ ওই টাকা ওই বছরের ১৮ অক্টোবর পরিশোধে বাধ্য থাকবেন বলে লিখিত অঙ্গীকার করেন। অদ্যাবধি সেই টাকা পরিশোধ না করে উল্টো তিনি হিসেবে গরমিল করে দুই লাখ ৫৪৫ টাকা আত্মসাৎ করেন। যার ফলে তার বিরুদ্ধে আবারও তৃতীয় দফা এ নিরীক্ষা কমিটি গঠন করা হয়।  

এ বিষয়ে মাদরাসার দাতা সদস্য ও নিরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ইয়ার হোসেন বলেন, ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করাসহ একের পর এক অনিয়ম-দুর্নীতি করে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা অধ্যক্ষ মাওলানা আ. হালিমকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করে ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করতে হবে।  

এ ব্যাপারে মাদরাসার গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সদস্য আক্তার হোসেন মোল্লা বলেন, মাওলানা আ. হালিম আপাদমস্তক একজন দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ। তাকে যত তাড়াতাড়ি অপসারণ করা সম্ভব হবে প্রতিষ্ঠানের জন্য ততই মঙ্গল।  

এদিকে, আহম্মদাবাদ বেতাল হোসাইনিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আ. হালিম তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ প্রসঙ্গে মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি এম এ ওহাব বলেন, আগে কী হয়েছে সেটা তার দেখার বিষয় নয়। তার আমলের বিষয়গুলো তিনি দেখবেন।  

তার এ বক্তব্যের বিরোধিতা করে রেজল্যুশনের মাধ্যমে পূর্বের কমিটির করা নিরীক্ষা কমিটির প্রতিবেদন এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই বলে মত প্রকাশ করে গভর্নিং বডির অপর সদস্য ও নিরীক্ষা কমিটি এবং অভিভাবকরা অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করেছেন।



সাতদিনের সেরা