kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আগস্ট ২০২২ । ৪ ভাদ্র ১৪২৯ । ২০ মহররম ১৪৪৪

সীতাকুণ্ডে প্রকাশ্যে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি    

২৯ জুন, ২০২২ ২৩:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সীতাকুণ্ডে প্রকাশ্যে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে প্রকাশ্যে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ফকিরহাট বাংলা বাজার সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম মমিনুল হক (৪৫)। তিনি উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মৃত ইমাম শরীফের ছেলে।

বিজ্ঞাপন

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড মুরাদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা কৃষক মমিনুল হক তার ছেলে ও ভাতিজাকে নিয়ে স্থানীয় ফকিরহাট বাজারে গরু কিনতে যান। পছন্দের গরু না পেয়ে তারা সন্ধ্যায় একটি অটোরিকশাযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু তারা যখন বাড়ির কাছাকাছি বাংলা বাজার সড়কে সে সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একদল দুর্বৃত্ত কয়েকটি সিএনজি অটোরিকশাযোগে তাদের গাড়ির গতিরোধ করে দা কৃষ্ণ ধারাল অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে। এসময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দেখে মুমিনুল হকের সঙ্গে থাকা ছেলে, ভাতিজা ও অপর এক ব্যক্তি দৌড়ে পালিয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা মমিনুল হককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বাহার জানান,  মমিনুল হক একজন কৃষক। তিনি একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগ সমর্থক। এই এলাকায় একটি খুনি সন্ত্রাসী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। চক্রটি নিয়মিত বিরতিতে একের পর এক খুন করে চলেছে। দিন-দুপুরে আবারো সেই চক্রটি মমিনুল হককে হত্যা করেছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।  

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. আবুল কালাম আজাদ ও সীতাকুণ্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফুল করিম বলেন, ঘটনার সময় মমিনুল হকের পাশে থাকা তার ছেলে ভাতিজা ও গ্রামবাসী মামুনের সঙ্গে কথা বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে দুর্বৃত্তরা একেবারে পরিকল্পিতভাবে শুধুমাত্র মমিনুল হককেই হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছিল। কারণ কয়েকজন সন্ত্রাসী প্রথমে মামুনকে ধরে অটোরিকশা থেকে নামানোর চেষ্টা করলেও পেছন থেকে এক দুর্বৃত্ত অন্য সন্ত্রাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মমিনুল হক ভিতরে আছেন ইনি মমিনুল হক না। ফলে সন্ত্রাসীরা মামুনকে ছেড়ে পুনরায় মমিনুল হককে খুঁজে বের করে তাকে এলোপাতাড়ি কোপায়। পরে তিনি মারা যান।

এছাড়া আর কাউকে কোনো আঘাত করেনি সন্ত্রাসীরা। এ থেকেই পরিষ্কার বোঝা যায় এটি অত্যন্ত পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে কি কারণে কৃষক মমিনুল হককে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ ও তার পরিবার।  



সাতদিনের সেরা