kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে মোটরসাইকেল পারাপার

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি   

২৮ জুন, ২০২২ ১৯:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে মোটরসাইকেল পারাপার

দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে অনেকেই আজ মঙ্গলবারও মোটরসাইকেল নিয়ে পদ্মা সেতু পারাপার হতে আসেন। তবে জাজিরা টোল প্লাজা থেকে সবাইকে সরিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। মাঝিকান্দি ঘাটে একটি ফেরি চালু থাকায় বাধ্য হয়ে বাইকাররা ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে মোটরসাইকেল পারাপার করছেন। তবে কেউ কেউ টোল প্লাজা থেকে ৫০০-৭০০ টাকা ভাড়া দিয়ে মোটরসাইকেল পিকআপে উঠিয়ে ট্রিপল দিয়ে ঢেকে পদ্মা সেতু পাড়ি দিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে পদ্মা সেতুর জাজিরা টোল প্লাজায় যানবাহনের চাপ শুরু হয়। তবে মোটরসাইকেল পারাপার বন্ধ ঘোষণায় টোল প্লাজা এলাকায় যানজট ছিল না। সকাল থেকেই টোল প্লাজা এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক  সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এদিনও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে মোটরসাইকেল আসে পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে। কিন্তু প্রশাসন তাদের জাজিরা টোল প্লাজা থেকেই ফিরিয়ে দেয়।  

গত ২৫ জুন পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে ২৬ জুন সকাল ৬টা থেকে গণপরিবহন পারাপারের জন্য চালু করা হয়। কিন্তু কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য পরের দিন থেকে কঠোর অবস্থান নেয় প্রশাসন। সেতু পারাপারের জন্য বেঁধে দেওয়া হয় বিধি-নিষেধ। এদিকে বাংলাবাজার ফেরিঘাট এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।

খুলনা থেকে আসা সিহাব বলেন, 'পদ্মা সেতু চালু হলো, এতে আমরা খুবই খুশি। কিন্তু মোটরসাইকেল নিয়ে যদি না যেতে পারি তাহলে আমাদের দুর্ভোগ আর কাটল কই। বিষয়টি সরকারের দেখা উচিত। '

গৌরনদী থেকে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, 'পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকা যেতে চেয়েছিলাম; কিন্তু জাজিরা টোল প্লাজায় পুলিশ মোটরসাইকেল ফিরিয়ে দিয়েছে। তাই কোনো উপায় না পেয়ে ফেরিতে পার হতে মাঝিকান্দি ঘাটে এসেছিলাম। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ফেরি না পেয়ে বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে চড়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছি। '

ফরিদপুরের মনির হোসেন বলেন, 'কিছু অসাধু মানুষের জন্য আমাদের সবাইকে শাস্তি দেওয়া ঠিক না। আমরা চাই প্রশাসন কঠোর নজরদারির মধ্য দিয়ে আমাদের মোটরসাইকেল নিয়ে পদ্মা সেতু পারাপারের যেন সুযোগ করে দেয়। '

মাদারীপুরের শাহিন মিয়া বলেন, 'পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল পারাপার বন্ধ; তাই বাধ্য হয়ে ৫০০-৭০০ টাকা করে দিয়ে কয়েকজন মিলে একটি পিকআপ ভাড়া করে পদ্মা সেতু পারাপার হচ্ছি। সেতুতে প্রশাসনের টহল জোরদার করে মোটরসাইকেল পারাপারের দাবি জানাচ্ছি। ' 

শিবচর হাইওয়ে থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'যে সকল যানবাহনের রুট পারমিটসহ সকল বৈধ কাগজপত্র রয়েছে আমরা তাদেরকে সেতু পারাপারের জন্য ছেড়ে দিচ্ছি। যে সকল গাড়ির রুট পারমিট নেই তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বিক্রির উদ্দেশ্যে শোরুমের গাড়ি অন্য কোনো পিকআপে বা ট্রাকে আনা হলে তাদেরকে যেতে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু চলাচলকারী কোনো মোটরসাইকেলকে পদ্মা সেতু পারাপার হতে দেওয়া হচ্ছে না। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল পারাপার বন্ধ থাকবে। '



সাতদিনের সেরা