kalerkantho

মঙ্গলবার। ৯ আগস্ট ২০২২ । ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১০ মহররম ১৪৪৪

সিলেট-সুনামগঞ্জ

বন্যায় গুদাম ও গোলায় নষ্ট হয়েছে ধান-চাল

সিলেট অফিস ও সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৮ জুন, ২০২২ ০৮:২৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বন্যায় গুদাম ও গোলায় নষ্ট হয়েছে ধান-চাল

বন্যার পানি ঢোকে সুনামগঞ্জের মল্লিকপুরের খাদ্যগুদামে। সম্প্রতি তোলা। সেই পানি এখন নেই। ছবি : কালের কণ্ঠ

সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে এবারের বন্যায় ধান-চালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় বাড়িঘর ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি সরকারি অনেক খাদ্যগুদামও ডুবে যায়। ফলে ব্যক্তি পর্যায়ে যেমন ধান-চাল ভেসে গেছে ও পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছে, তেমনি সরকারি সংগ্রহের ধান-চালও নষ্ট হয়েছে। বন্যায় ধান-চাল নষ্ট হওয়াকে বাজারে চালের দাম বাড়তির একটি কারণ বলা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সরকারিভাবে এই ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো করা হয়নি বলে জানান কর্মকর্তারা। তবে বন্যাকবলিত বিভিন্ন উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলেটে বন্যায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ধান-চাল নষ্ট হয়েছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জে মোট ১৯টি খাদ্যগুদামে বন্যার পানি ঢুকেছিল।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের পিরিজপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক তিনবারের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মঈনুল হক বলেন, ‘আমার প্রায় ২০০ মণ ধান ছিল। এর মধ্যে ৯০ মণ ধান নষ্ট হয়েছে। অনেকের এর চেয়ে বেশি পরিমাণে নষ্ট হয়েছে। ’

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের টুকেরগাঁওয়ের কৃষক বাছির মিয়া বলেন, ‘ঘরে ১০০ মণের মতো ধান ছিল। এর মধ্যে ৬০ মণের মতো ধান বন্যার পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। কিছু ভেসে গেছে। ’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক মোহাম্মদ খয়ের উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার ধানের উৎপাদন বেশি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মে মাসে প্রথম দফা বন্যায় দুই হাজার ২৬৯ হেক্টর জমির ধান ক্ষতির মুখে পড়ায় সেটা সম্ভব হয়নি। ’ তিনি জানান, এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পাঁচ হাজার ৪৬৯ মেট্রিক টন কমে ধান উৎপাদিত হয়েছে তিন লাখ ২৭ হাজার ৩৭৮ মেট্রিক টন।

এদিকে সিলেট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের উৎপাদিত তিন লাখ ২৭ হাজার ৩৭৮ মেট্রিক টন ধানের মধ্যে তিন হাজার মেট্রিক টন কিনেছিল সরকার। সিলেটে সাতটি সরকারি গুদামে এসব ধান সংরক্ষণ করা ছিল। বন্যার কারণে সিলেট জেলার এসব গুদামে কমবেশি ধানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সিলেট সদর, কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটের খাদ্যগুদামে।

সিলেট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নয়ন জ্যোতি চাকমা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা তিন হাজার মেট্রিক টন চাল কিনেছিলাম। বন্যায় আমাদের সাত গুদামের মধ্যে সদর উপজেলা, কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ’ কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এখনো পুরোপুরি হিসাব করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা, ১০ থেকে ১৫ মেট্রিক টন ক্ষতি হয়েছে। ’

সরকারিভাবে কেনা তিন হাজার টন ধান বাদ দিলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছে রয়ে গেছে তিন লাখ ২৪ হাজার ৩৭৮ মেট্রিক টন চাল। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দুই দফা আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয় সিলেটের ১৩টি জেলা। এসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশির ভাগ মানুষের সংরক্ষণ করা ধানের বড় অংশ পানিতে ভেসে গেছে অথবা পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।

এদিকে সুনামগঞ্জের খাদ্য অধিদপ্তরের ১৩টি গুদামের মধ্যে ১২টিই পানিতে নিমজ্জিত হয়েছিল। তবে আটটি গুদামে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেশি। এসব গুদামে ১০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ছিল।

সুনামগঞ্জ শহরের মল্লিকপুর খাদ্যগুদামে গিয়ে দেখা যায়, গুদামগুলো থেকে খাদ্যশস্য বের করা হচ্ছে। নিচে ভেজা বস্তায় গন্ধ ধরেছে।

খাদ্যগুদামের একজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, খাদ্যগুদামে সাত হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ছিল।

জেলা খাদ্য অফিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, জেলার ১৩টি খাদ্যগুদামের মধ্যে আটটিতে দুই থেকে তিন ফুট পানি ছিল। তাই মজুদকৃত খাদ্যশস্যের নিচের বস্তাগুলো ভিজে গেছে। এখন ওপরের অংশ সরিয়ে নিচেরগুলো বের করার চেষ্টা চলছে।

সুনামগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নকীব সাদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের জেলায় ২৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন গুদাম রয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন চাল ও তিন হাজার মেট্রিক টন ধান ছিল। ১৩টির মধ্যে আটটিই পানিতে নিমজ্জিত হয়েছিল। তবে এতে ক্ষয়ক্ষতি তেমন হয়নি।



সাতদিনের সেরা