kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আগস্ট ২০২২ । ৪ ভাদ্র ১৪২৯ । ২০ মহররম ১৪৪৪

অনিশ্চতায় দুলছে চা বিক্রেতা নাজিমুদ্দিনের ভাগ্য

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ   

২৭ জুন, ২০২২ ২১:৪১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অনিশ্চতায় দুলছে চা বিক্রেতা নাজিমুদ্দিনের ভাগ্য

সত্তরোর্ধ্ব নাজিমুদ্দিন সকাল হলেই ফ্লাস্ক ভর্তি করে চা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন পাটুরিয়া ফেরিঘাটে। কখনো এ ঘাট আবার কখনো অন্য ঘাটে ফেরি করে চা বিক্রি করেন ঘাট পার হতে আসা যাত্রীদের কাছে। সাথে শুকনা খড়খড়ে টোস্ট বিস্কুট ও সিগারেট চলে। সারা দিন এসব জিনিস বিক্রয় করে খরচ বাদে ছয়-সাত শ টাকা লাভ থাকে।

বিজ্ঞাপন

আবার যানজট হলে আরো দুই-তিন শ টাকা বেশি বিক্রি হতো। এ দিয়েই ভালোমতো চলত তার সংসার।  

গতকাল রবিবার পদ্মা সেতু খুলে দেওয়ার পর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যানবাহ ও যাত্রীরা এ ঘাট দিয়ে আসছে না। মাঝে মাঝে অল্প সংখ্যক গাড়ি এলেও নৌ রুটের ফেরিগুলো গাড়ির অপেক্ষায় রয়েছে। স্বাভাবিক কারণেই নাজিমুদ্দিনের চা বিক্রিও কমে গেছে। নিয়তির চরম বাস্তবতায় দুলছে তার ভাগ্য। কিভাবে চলবে এখন তার সংসার? এই বৃদ্ধ বয়সে কী কর্ম করে খাবেন, সেই প্রশ্নের জবাব চান বিধাতার কাছে।

কালের কণ্ঠের এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপচারিতায় এসব কথা বলছিলেন পাটুরিয়া ঘাটের চা বিক্রেতা নাজিমুদ্দিন।   তিনি এ সময় বলেন, তার বাড়ি পাটুরিয়া ৫ নম্বর ঘাটের কাছে। এক ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার। এখন বয়সের কারণে আর অন্য কোনো কাজ করতে পারেন না। তাই বাড়ি থেকে সকালে চা বানিয়ে ফ্লাস্কে করে ঘাট এলাকায় ফেরি করে বিক্রি করেন। পদ্মা সেতু খুলে দেওয়ার পর দুই দিনে মাত্র চার শ টাকার চা বিক্রি করেছেন। এখন লাভ তো দূরের কথা খরচই উঠছে না। এভাবে চলতে থাকলে কিভাবে সংসার চলবে তা নিয়ে চিন্তার শেষ নেই তার।   

নাজিমুদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে আরো বলেন, 'দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।  ফলে যাতায়াত ব্যবস্থারও উন্নয়ন হচ্ছে। পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করছে। কিন্তু  আমরা এখন কী করে খাব? সরকার যদি আমাদের আর্থিকভাবে পুনর্বাসন করত তাহলে আমরা চলতে পারতাম। '

বিআইডাব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম মো. খালেদ নেওয়াজ বলেন, পদ্মা সেতু খুলে দেওয়ার কারণে প্রথম প্রথম অনেকেই ওই রুট ব্যবহার করছেন। কয়েক দিন গেলে আবার পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে যানবাহনের চাপ বাড়বে।



সাতদিনের সেরা