kalerkantho

সোমবার । ১৫ আগস্ট ২০২২ । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৬ মহররম ১৪৪৪

জনশূন্য বাংলাবাজার ঘাট, লঞ্চ-স্পিডবোট ঘাটে স্থবিরতা

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি   

২৭ জুন, ২০২২ ২০:২১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জনশূন্য বাংলাবাজার ঘাট, লঞ্চ-স্পিডবোট ঘাটে স্থবিরতা

দুই দিন ধরে স্থবিরতা নেমে এসেছে বাংলাবাজার ফেরিঘাটে। ২৪ ঘণ্টা কোলাহলপূর্ণ ঘাটটি বর্তমানে হয়ে পড়েছে প্রায় জনশূন্য। গত ২৬ মের পর থেকে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে কেন্দ্র করে ফেরি বন্ধ রেখেছে বিআইডাব্লিউটিসি। আর পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে বাংলাবাজার ঘাটে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচলে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

গেল দুই দিনে অল্পসংখ্যক লঞ্চ-স্পিডবোট চলেছে পদ্মা নদীতে। এ ছাড়া এ ঘাটের হোটেল, কনফেকশনারি, ফল, চায়ের দোকানসহ শত শত দোকান হয়ে গেছে বন্ধ। ফলে ব্যবসায়ী ও হকাররা অলস সময় পার করছেন।

বিআইডাব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন জানান, ‘গেল ২৬ মের পর থেকে বাংলাবাজার ঘাটের ফেরির সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে শরীয়তপুরের মাঝিকান্দি ঘাটে দুটি ফেরি চালু করা হয়েছে। আর সব ঘাটেই লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল রয়েছে। কেউ লঞ্চ-স্পিডবোট না চালালে সেটা মালিক পক্ষের বিষয়। এদিকে বাস, ট্রাকসহ ভারী যানবাহন পদ্মা সেতু হয়ে চলাচল করছে। আর পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় মাঝিকান্দি ঘাট দিয়ে ফেরিতে মোটরসাইকেল পারাপার হচ্ছে। তবে দুটি ফেরি চালু থাকায় কিছুটা সময় লাগছে। ’

এদিকে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রাখায় বিপাকে পড়েছেন বাইকাররা। অনেকে রাতে জাজিরা প্রান্ত ঘুরতে এসে সকালে মাওয়া পারে বাইক নিয়ে যেতে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। তারা নিয়মমাফিক মোটরসাইকেল চালানোর দাবি করেন। অনেকেই বিকল্প রুট হিসেবে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট ব্যবহার করছেন।

বরিশাল থেকে আসা বাইকার মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের টাকায় আমাদের সেতু হলেও তার সুফল পাচ্ছি না। সকাল ৬টায় জাজিরা টোল প্লাজায় এসে তিন ঘণ্টা দেরি করেও কোনো লাভ হয়নি। অবশেষে দৌলতদিয়া হয়ে ঢাকায় যাচ্ছি। '

বাংলাবাজার ঘাটের হোটেল ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর লঞ্চে যাত্রীরা পারাপার হতে তেমন আসে না। নামমাত্র যাত্রী নিয়ে কয়েকটি লঞ্চ চলাচল করছে। তাই হোটেলসহ কোনো দোকানই খোলা রাখা যাচ্ছে না।

বাংলাবাজার ঘাটের স্পিডবোট মালিক সমিতির পরিচালক রাসেল মিয়া বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালুর পর আামদের সি-বোট বন্ধ হওয়ার মতোই। কেউ ঘাটে আসছে না। গেল দুই দিনে ১৫ থেকে ২০টি সি-বোট চলাচল করেছে। এতে তেলের টাকাও হয় না। ফলে সি-বোট চালু রাখার কথা বললেও কার্যত আমাদের বন্ধ রাখতে হবে। কারণ মানুষ না হলে আমরা কিভাবে চালাব। তাই সরকারিভাবে চালানোর কথা থাকলেও আমরা বন্ধ করে রাখতে বাধ্য থাকব। ’

বাংলাবাজার-শিমুলিয়া ঘাটের লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি আতাহার বেপারী বলেন, 'সেতু চালু হয়েছে এতে আমরা খুশি। কিন্তু কিভাবে লঞ্চ চলবে, যদি যাত্রী না আসে। দুই দিন কোনো যাত্রীই ছিল না। পাঁচ থেকে সাতটি লঞ্চ আসা-যাওয়া করলেও তেলের পয়সাও হবে না। তাই বাধ্য হয়েই লঞ্চ বন্ধ রাখতে হবে। এই রুটে প্রায় ৮৭টি লঞ্চ রয়েছে, প্রতিটি লঞ্চ ১০ থেকে ২৫ লাখ টাকার ওপরে। এভাবে বন্ধ থাকলে আমাদের কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়ে যাবে। '

তিনি আরো বলেন, 'আমাদের লঞ্চ অন্য রুটে চালানোর ব্যবস্থা করা হোক। না হয় সরকারিভাবে প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হোক। না হলে লঞ্চের সাথে জড়িত পাঁচ শতাধিক পরিবারকে পথে বসতে হবে। '

এ ব্যাপারে বিআইডাব্লিউটিএর বাংলাবাজার ঘাটের পরিবহন পরিদর্শক আখতার হোসেন বলেন, ‘আমাদের লঞ্চ বন্ধ হওয়ার কোনো সংবাদ নেই। যদি লঞ্চ মালিকরা চালায় তাহলে আমরাও দায়িত্ব পালন করব। এর বাইরে কিছু বলতে পারছি না। আমি প্রতিদিনই ঘাটে অবস্থান করছি। ’

বিআইডাব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, 'বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌ রুটে আগে ৮৭টি লঞ্চ, দেড় শতাধিক স্পিডবোট আর ১৭টি ফেরি নিয়মিত চলাচল করত। তবে পদ্মা সেতু উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে এক মাস ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিকল্প রুট হিসেবে শরীয়তপুরের মাঝিরকান্দি ঘাট দিয়ে তিন থেকে পাঁচটি ফেরি চলাচল করছে। '



সাতদিনের সেরা