kalerkantho

সোমবার । ১৫ আগস্ট ২০২২ । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৬ মহররম ১৪৪৪

পদ্মায় ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ ছাত্রলীগ নেতার লাশ উদ্ধার

ভোলা প্রতিনিধি   

২৭ জুন, ২০২২ ১৭:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পদ্মায় ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ ছাত্রলীগ নেতার লাশ উদ্ধার

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর ভোলার চরফ্যাশন সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আল আফসার তামিমের (২৪) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত তামিম চরফ্যাশন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের অবরসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মজির উদ্দিনের একমাত্র ছেলে। আজ সোমবার দুপুর ২টার দিকে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর এলাকায় নদীর কিনারে ভাসমান অবস্থায় তাঁর লাশ পাওয়া যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

 

তিনি জানান, দুপুরের দিকে কুন্ডেরচর এলাকার বাসিন্দারা নদীতে লাশ ভাসতে দেখে থানায় খবর দেয়। পরে থানা থেকে নিখোঁজ তামিমের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা লাশটি তামিমের বলে নিশ্চিত করে। খবর পেয়ে তামিমের পরিবারের লোকজন এলে তাদেরকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

এদিকে তামিমের মৃত্যুর খবরে চরফ্যাশনে তার গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। গত দুই দিন ছেলেকে জীবিত পাওয়ার আশা থাকলেও একমাত্র ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তার বাবা-মা। ভেঙে পড়েছেন তামিমের সহপাঠীসহ বন্ধু মহল। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ভোলা-৪ আসনের সংসদ  সদস্য মো. আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

এর আগে গত শনিবার (২৫ জুন) দুপুরের দিকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা প্রান্ত থেকে একটি যাত্রীবাহী ট্রলারযোগে ২২ জন মিলে মাওয়া ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। ট্রলারটি মাঝনদীতে পৌঁছলে প্রবল স্রোতের টানে ট্রলারটি উল্টে যায়। এতে সবাই নদীতে পড়ে যায়। পরে একটি স্পিডবোট নদীতে হাবুডুবু খাওয়া ২১ যাত্রীকে উদ্ধার করলেও ছাত্রলীগ নেতা আল আফসার তামিমের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। দুই দিন ধরে তামিমের খোঁজে পদ্মা নদীতে উদ্ধার চালানো হয়। সর্বশেষ সোমবার দুপুরের দিকে জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর এলাকায় তার লাশ পাওয়া যায়।

চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সোহাগ জানান, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেষে তারা ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে একটি ট্রলারে করে মাওয়া ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেন। ট্রলারে থাকা সবাই ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বাসিন্দা। ট্রলারটি মাওয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার ৩০ মিনিট পর নদীর প্রচণ্ড স্রোত ও রুলিংয়ের কারণে ট্রলারটি ডানে-বায়ে এবং ওপরে-নিচে দুলতে থাকে। ট্রলারে থাকা সবাই আল্লাহকে ডাকতে থাকে। পাঁচ-সাত মিনিট পর আবার নদী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। পরে ট্রলারটি নদীর ঠিক মাঝামাঝি গেলে হঠাৎ প্রচণ্ড স্রোত ট্রলারটিকে দুটি ধাক্কা দিলে সাথে সাথে ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে সম্ভবত ট্রলারটির নিচ থেকে ফেটে গেছে। পরে ৩০-৪০ মিনিট নদীতে ভাসতে থাকে সবাই। এ অবস্থায় সেখান দিয়ে একটি স্পিডবোট যাওয়ার সময় সকলে স্পিটবোটটিকে ডাকতে থাকে। প্রথমে বোটটি না এলেও পরে সেটি তাদের কাছে এসে সবাইকে উদ্ধার করে। তবে এর মধ্যে তামিমকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এর পর থেকে গত দুই দিন ধরে তামিমকে অনেক খোঁজাখুঁজি করা হয়েছে। তাকে আর জীবিত পাওয়া গেল না।



সাতদিনের সেরা