kalerkantho

সোমবার । ১৫ আগস্ট ২০২২ । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৬ মহররম ১৪৪৪

ছোট ভাইয়ের নামে চাকরি করে অবসরে বড় ভাই, পেনশন নিতে গিয়ে ধরা!

আলম ফরাজী, ময়মনসিংহ (আঞ্চলিক)   

২৭ জুন, ২০২২ ১৬:০১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ছোট ভাইয়ের নামে চাকরি করে অবসরে বড় ভাই, পেনশন নিতে গিয়ে ধরা!

নিজের নাম বাদ দিয়ে ছোট ভাই আনোয়ারুজ্জামানের নাম ব্যবহার করে চাকরি করে অবসরে গেছেন বড় ভাই বদরুজ্জামান। অবসরে গিয়ে পেনশন উত্তোলনের সময় বিপাকে পড়েছেন তিনি। প্রায় ২০ লাখ টাকা পেনশন এখন অনেকটাই অনিশ্চিয়তায় রয়েছে। এ ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের গাঙ্গাইল ইউনিয়নের উন্দাইল গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে বদরুজ্জামানের ক্ষেত্রে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্র ও তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ওই গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের দুই ছেলে বদরুজ্জামান ও আনোয়ারুজ্জামান। বয়সের পার্থক্য খুব একটা বেশি নয়। বড় ভাই প্রাথমিকের গণ্ডি পার না হলেও ছোট ভাই এসএসসি পাস করেছিলেন। এক পর্যায়ে কাজের সন্ধানে ১৯৮৮ সালে বড় ভাই বদরুজ্জামান খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় চলে যান। সেখানে তার বোন জামাই একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন। তার কাছে গিয়ে একটি ছোট দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন বদরুজ্জামান।  

এর মধ্যে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ে মাস্টার রোলে ‘বিএস মেশন’ পদে লোক নেওয়া হয়। নিজের কোনো শিক্ষকতা যোগ্যতা না থাকায় ছোট ভাই আনোয়ারুজ্জামানের নাম দিয়ে নিজেই চাকরি বাগিয়ে নেন বদরুজ্জামান। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি।  

২০০৭ সালের দিকে চাকরিটি রাজস্ব খাতে স্থানান্তর হলে প্রয়োজন পড়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের। ছুটিতে বাড়ি গিয়ে গোপনে ছোট ভাইয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজ হস্তগত করে জমা দেন। এর মধ্যে সারা দেশে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির কার্যক্রম শুরু হলে বদরুজ্জামান নিজের নাম পাল্টে ছোট ভাই আনোয়ারুজ্জামানের নাম দিয়ে নিজের একটি জাতীয় পরিচয়পত্র করে নেন। আর এ ঘটনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন বোন জামাই নুরে আলম সিদ্দিকী। এভাবেই নির্বিঘ্নে চাকরি করতে থাকেন। এর মধ্যে বদরুজ্জামান প্রেশনে চলে যান দীঘিনালায়। অবসরের আগ পর্যন্ত সেখানেই চাকরি করেছেন।  

২০১৮ সালের মার্চ মাসে অবসরের পর পেনশন তুলতে গিয়ে বেকায়দায় পড়েন বদরুজ্জামান। সংশ্লিষ্ট কার্যালয় অন্যান্য কাগজপত্রের সাথে স্ত্রী-সন্তানদের জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র চায়। আর এতেই বিপাকে পড়েন তিনি। বারবার সময় নিয়ে তিনি বাড়িতে এসে ছোট ভাইয়ের কাছে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র চাইলে ঘটনাটি জানাজানি হয়ে যায়। এতে ছোট ভাই আনোয়ারুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে পরিবারের লোকজনের কাছে বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারুজ্জামান জানান, তিনি এসএসসি পাস করেছেন। কিন্তু বড় ভাই বদরুজ্জামান লেখাপড়া করেননি। পরে কর্মের সন্ধানে তিনি খাগড়াছড়ি চলে যান। সেখানেই তিনি উদ্যেশ্যমূলকভাবে তার নাম দিয়েই চাকরি নেন। এ ঘটনা আগে না জানলেও অবসরে যাওয়ার পর জানতে পারেন।

এ ব্যাপারে বড় ভাই নিজের নাম বদরুজ্জামান বলে স্বীকার করে বলেন, ওই সময় নিজে সেখানে ব্যবসা করতেন। এক পর্যায়ে একটি সুযোগ পেয়ে ছোট ভাইকে চাকরিতে নাম দিয়ে দেন। পরে সুবিধা ভালো বুঝে নিজেই করতে থাকেন। আর সেখানেই জাতীয় পরিচয়পত্রটাও করেন ছোট ভাইয়ের নাম দিয়ে। এখন বুঝতে পারছেন এটা তার ভুল হয়ে গেছে।

বোন জামাই নুরে আলম সিদ্দিকী জানান, তিনিই বদরুজ্জামানের চাকরিটার ব্যবস্থা করে দেন। সেই সাথে বদরুজ্জামানের নাম বাদ দিয়ে ছোট ভাই আনোয়ারুজ্জামানের নাম ব্যবহার করে চাকরি করায় জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সময় নিজের পরিচয়পত্রটাও আনোয়ারুজ্জামানের নাম দেওয়া হয়। নিজেই সব ব্যবস্থা করে দেন। এটা অন্যায় হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুইজনে তো ভাইয়েই। অসুবিধা কোথায়? কেউ খোঁচাখুঁচি না করলেই হয়। '

দীঘিনালা উপজেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ে প্রায় ৩২ বছর ধরে বিএস মেশন পদে চাকরি করছেন বদিউল আলম। তিনি বলেন, ‌'আমরা তো জানি তিনিই আনোয়ারুজ্জামান। এখন কিভাবে বদরুজ্জামান হলেন? এটা বড় দুর্নীতি। '

এ ঘটনায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন কালের কণ্ঠের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তার কার্যালয়ে আনোয়ারুজ্জামান নামে একজন বিএস মেশন পদের ব্যক্তি প্রেশনে চাকরি করতেন। তার মূল পোস্টিং ছিল লক্ষ্মীছড়ি। প্রায় চার বছর আগে অবসরে যান তিনি।



সাতদিনের সেরা