kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আগস্ট ২০২২ । ৪ ভাদ্র ১৪২৯ । ২০ মহররম ১৪৪৪

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন বলছে

আত্মহত্যা নয়, শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় শিহাবকে!

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি   

২৭ জুন, ২০২২ ১৪:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আত্মহত্যা নয়, শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় শিহাবকে!

শিহাব মিয়া।

টাঙ্গাইল শহরের সৃষ্টি অ্যাকাডেমিক স্কুলের আবাসিক ভবন থেকে উদ্ধার শিহাব মিয়ার (১০) মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। তাকে শ্বাসরোধ করে কিংবা গলা চেপে ধরে হত্যা করার আলামত পাওয়া গেছে। রবিবার (২৬ জুন) দুপুরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ফল পাওয়া যায়। সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনটি থানায় পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ২০ জুন সন্ধ্যায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিহাব মিয়ার লাশ সৃষ্টি স্কুলের আবাসিক ভবন থেকে উদ্ধার করা হয়। নিহত শিহাব মিয়া জেলার সখীপুর উপজেলার বেরবাড়ী গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের ছেলে। পরদিন (২১ জুন) টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে শিহাবের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। যদিও সৃষ্টি অ্যাকাডেমিক স্কুল কর্তৃপক্ষ এ ঘটনাকে শুরু থেকে আত্মহত্যা বলে আসছিল। কিন্তু পরিবার দাবি করছিল এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।  

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শিহাবের লাশ ময়নাতদন্ত করার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আরএমওসহ তিন চিকিৎসকের সমন্বয়ে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। ওই তিন সদস্যদের মেডিক্যাল বোর্ড ময়নাতদন্তের কাজ সম্পন্ন করে। কোনো কিছু (গামছাজাতিয়) পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার আলামত পাওয়া যায় ময়নাতদন্তে। তাছাড়া শরীরের অন্য কোনো স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। শুধু গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

একটি অসমর্থিত সূত্র জানায়, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হত্যার আলামত আসার পর পুলিশ সৃষ্টি অ্যাকাডেমিক স্কুলের দুইজন শিক্ষককে আটক করেছে।  

নিহত শিহাবের ফুফাতো ভাই আল-আমিন সিকদার জানান, চার মাস আগে সৃষ্টি অ্যাকাডেমিক স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে শিহাব মিয়াকে ভর্তি করা হয়। ঘটনার দিন সৃষ্টি অ্যাকাডেমিক স্কুল থেকে জানানো হয়েছিল শিহাব দুর্ঘটনার শিকার। পরে আবার ফোন করে জানানো হয় শিহাব মাথা ঘুরে পড়ে গেছে। শিহাব যেখানে থাকতো সেখানে তাদের যেতে দেওয়া হয়নি। শিহাব আত্মহত্যা করার মতো ছেলে না।  

নিহতের বাবা ইলিয়াছ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি আমার ছেলে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। যাতে এ ধরনের জঘন্য ঘটনা ঘটাবার সাহস কেউ না পায়। ’ এ ব্যাপারে মন্তব্যের জন্য সৃষ্টি শিক্ষা পরিবারের চেয়ারম্যান ডক্টর শরিফুল ইসলাম রিপনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সম্ভব হয়নি।  

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুয়ায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যেই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ’

এদিকে, শিহাব হত্যার বিচারের দাবিতে টাঙ্গাইলের বিভিন্নস্থানে মানববন্ধন করেন ছাত্র-ছাত্রীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনেও মানববন্ধন এবং সমাবেশ করেন টাঙ্গাইলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ওঠেছে নিন্দার ঝড়। জানানো হয় হত্যার তীব্র প্রতিবাদ।  

আন্দোলনরত জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন বলেন, এখানে ছাত্র-ছাত্রীরা পড়তে আসে, মরতে নয়। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে।



সাতদিনের সেরা