kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আগস্ট ২০২২ । ৪ ভাদ্র ১৪২৯ । ২০ মহররম ১৪৪৪

চট্টগ্রাম

কোরবানির ঈদে পশুর ‘সংকট নেই’

মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম   

২৭ জুন, ২০২২ ১০:১৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কোরবানির ঈদে পশুর ‘সংকট নেই’

রাজশাহীর বাইপাস সিটি হাটে গতকাল বিপুলসংখ্যক কোরবানির পশু ওঠে। তবে বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এখনো হাটে ক্রেতা কম। ছবি : কালের কণ্ঠ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় চট্টগ্রামে কোরবানিযোগ্য গবাদি পশুর সংকট হবে না বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। তবে চট্টগ্রাম ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশন (সিডিএফএ) বলছে, এখানকার গরুর বাজার নির্ভর করছে সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর। উত্তরাঞ্চল ও সীমান্তের ওপার থেকে চট্টগ্রামে গবাদি পশু না এলে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, মহানগর ও জেলার ১৫ উপজেলায় এবার কোরবানি দেওয়া হবে আট লাখ ২১ হাজার পশু।

বিজ্ঞাপন

আর স্থানীয় বিভিন্ন খামারে ও গৃহস্থ চাষির কাছে কোরবানিযোগ্য গবাদি পশুর সংখ্যা প্রায় সাত লাখ ৯১ হাজার ৫০১টি। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার পশুর যে ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণে কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চট্টগ্রামের বাজারে পশু নিয়ে আসবেন। তাঁরা অল্প কিছুদিন লালন-পালন করে এগুলো কোরবানির বাজারে বিক্রি করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চট্টগ্রামে এবার কোরবানি ঈদে চাহিদা রয়েছে পাঁচ লাখ ৩৫ হাজার ৮০৩টি গরু, ৬৬ হাজার ২৩৭টি মহিষ, এক লাখ ৮৯ হাজার ৬২টি ছাগল ও ভেড়া এবং অন্যান্য পশু ৯৯টি। গত বছর সাত লাখ ৪২ হাজার ৪৫৫টি পশু কোরবানি হয়। এর মধ্যে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা হয় সাত লাখ ৫৬ হাজার ৩৩৪টি পশু। ২০২০ সালে সাত লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬টি পশু কোরবানি হয়। ওই বছর স্থানীয়ভাবে ছয় লাখ ৮৯ হাজার ২২টি পশু উৎপাদন করা হয়। চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলা ও নগরের থানাগুলোতে পালিত পশুর মধ্যে কোতোয়ালিতে চার হাজার ৭০২টি, ডবলমুরিংয়ে ৯ হাজার ১৬৭টি এবং পাঁচলাইশে ১৮ হাজার ২৫০টি কোরবানি ঈদে বিক্রিযোগ্য পশু রয়েছে। এ ছাড়া জেলার সাতকানিয়ায় ৪২ হাজার ১৬৯টি, লোহাগাড়ায় ৪৩ হাজার ৯৭৮টি, বাঁশখালীতে ৪১ হাজার ৭৮৩টি, চন্দনাইশে ৪০ হাজার ৮৫৪টি, আনোয়ারায় ৬৩ হাজার ৬৬৬টি, বোয়ালখালীতে ৪৮ হাজার ১৩৩টি, পটিয়ায় ৭২ হাজার ৩১৭টি, হাটহাজারীতে ৪৪ হাজার ৬৪৬টি, ফটিকছড়িতে ৫১ হাজার ২৩৫টি, রাউজানে ৩৮ হাজার ৬৩৫টি, রাঙ্গুনিয়ায় ৪৫ হাজার ৮১৮টি, সন্দ্বীপে ৬৯ হাজার ২২৩টি, সীতাকুণ্ডে ৪৪ হাজার ২৪৮টি, মিরসরাই উপজেলায় ৫৭ হাজার ৬৮০টি, কর্ণফুলীতে ৫৪ হাজার ৯৭৯টি গবাদি পশু রয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এরই মধ্যে চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর অনানুষ্ঠানিক বেচাকেনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পশু দিয়েই এবার কোরবানির চাহিদা মিটবে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা পশু আনতে শুরু করেছেন। আর মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও কোরবানি ঈদ টার্গেট করে পশু পালন করেছেন। এ কারণে এখানে পশুর সংকট হবে না। ’

চট্টগ্রাম ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মালিক মোহাম্মদ ওমর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদে চট্টগ্রামের গরুর বাজার নির্ভর করে সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর। চট্টগ্রাম অঞ্চলে ছোট-বড় প্রায় এক হাজার খামার রয়েছে। এসব খামার ও ঘরে পালিত যেসব গবাদি পশু রয়েছে, তা পর্যাপ্ত নয়। এসব গবাদি পশুর সংখ্যা সর্বোচ্চ দুই লাখ হবে। ’

তাঁর মতে, দেশের অন্য অঞ্চলের তুলনায় ঢাকা ও চট্টগ্রামে কোরবানি দেওয়া হয় বেশি। তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের গরুর ওপর চট্টগ্রামের বাজার নির্ভর করে। আর দেশের গরুর মাংসের চাহিদার ৬০ শতাংশ নির্ভর করে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসা গরুর ওপর।

মোহাম্মদ ওমর বলেন, ‘গরু লালন-পালনে খরচ গত বছরের তুলনায় এবার অনেক বেড়ে গেছে। ওষুধ ও পশুখাদ্যের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় অনেক খামারি গরুর সংখ্যা বাড়াননি। ’

তবে এর পরও এবার ঈদে পশুর দাম বেশি হবে না বলে উল্লেখ করে ওমর বলেন, ‘করোনা মহামারির প্রভাবে গত বছরের মতো এবারও কোরবানিদাতার সংখ্যা বাড়বে না। যদি সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে, তাহলে কোরবানি পশুর জোগান আশানুরূপ হবে। আর দামও সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। ’



সাতদিনের সেরা