kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ রুট

ফেরিঘাটে গাড়ি ফিরবে, আশা কর্তৃপক্ষের

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ   

২৬ জুন, ২০২২ ২১:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফেরিঘাটে গাড়ি ফিরবে, আশা কর্তৃপক্ষের

ছবি : কালের কণ্ঠ

পদ্মা সেতুতে যান পারাপার চালু হওয়ায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে গাড়ির চাপ কমে গেছে। প্রতিদিনের চিরাচরিত দৃশ্য ফেরির অপেক্ষমাণ যানবাহনের সারি মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে দেখা যায়নি। আজ রবিবার সকাল থেকেই পাটুরিয়া ঘাট অনেকটাই যানবাহনশূন্য ছিল।

এ সময় নৌ রুটের ফেরিগুলোর যানবাহন পারাপারের তেমন বেগ পোহাতে হয়নি।

বিজ্ঞাপন

ঘাটে পার হতে আসা যানবাহন ও চালকরা ভোগান্তি ছাড়াই পদ্মা পার হয়ে গেছে। বিগত দিনের তুলনায় সারা দিনে এক-তৃতীয়াংশ যানবাহন পার হলেও ঘাট কর্তৃপক্ষের দাবি, চার-পাঁচ দিন মধ্যে যানবাহনের সংখ্যা বাড়বে।

এদিকে পাটুরিয়া ঘাটের ব্যবসায়ীরা কর্ম হারানোর ভয়ে দিন পার করছেন।

ঘাট সূত্রে জানা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের অন্যতম প্রবেশদ্বার ছিল পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ রুট। এ রুট দিয়ে ওই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন প্রতিদিন রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করত। এ কারণে ফেরিঘাটে পারের জন্য তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য সরকার স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণ করে। আজ রবিবার যানবাহন চলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হয়।  

এ কারণে ওই অঞ্চলের মানুষ ও যান এই নৌ রুট ব্যবহার না করে পদ্মা সেতু দিয়ে পার হয়ে গন্তব্যে যাচ্ছে। ফলে রবিবার পাটুরিয়া ঘাট অনেকটাই যানবাহনশূন্য ছিল। এ সময় যানবাহনগুলো  দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা ছাড়াই ফেরি পার হয়ে যায়। রবিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৫৪টি বাস, ৫০৪টি পণ্যবাহী ট্রাক, ৪৭২টি ছোট গাড়ি পার হয়ে যায়। যা বিগত দিনের এক-তৃতীয়াংশ।  

তবে ঘাট কর্মকর্তাদের দাবি, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের কারণে অনেকেই আগ্রহ করে সেতু দিয়ে  যাচ্ছে। তবে চার-পাঁচ দিন গেলে আবার পুনরায় এ রুটে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে পণ্যবাহী ট্রাকগুলো এ রুট দিয়েই যেতে তাদের সুবিধা হবে।

ঘাটে পার হতে আসা ট্রাকচালক ফজলুর রহমান বলেন, 'নতুন নতুন অনেক ট্রাকচালকই পদ্মা সেতু ব্যবহার করছে। কয়েক দিন গেলে আবার সবাই এই রুট ব্যবহার করবে। কারণ সেতুতে পণ্যবাহী ট্রাকের ধারণক্ষমতা ২২ টন বলা হয়েছে। আবার ভাড়াও দ্বিগুণ। কিন্তু আমাদের খালি ট্রাকের ওজনই ১০ টনের ওপরে থাকে। সে ক্ষেত্রে সেতু ব্যবহার করে ট্রাকচালকদের তেমন সুবিধা হবে না। এদিকে আমরা গাড়িসহ অন্তত ৩০ টন ওজন নিয়ে ফেরি পার হয়ে থাকি। ' 

কে-টাইপের ফেরি বনলতার ইনচার্জ মাস্টার আব্দুস সালাম মল্লিক জানান, গত দিনের দিনের তুলনায় ফেরি ট্রিপ সংখ্যাও কমে গেছে। কারণ ঘাটে যানবাহনের চাপ কম ছিল।  

বিআইডাব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম মো. খালিদ নেওয়াজ বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের ফলে যানবাহন কিছুটা এ রুটে কম আসছে। তবে একেবারেই শূন্য না। অনেকেই নতুন সেতু পার হওয়ার জন্য ওই রুট ব্যবহার করছে। তবে দু-চার দিনে গেলে আবারও এ রুটে যানবাহনের চাপ বাড়বে।



সাতদিনের সেরা