kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

এমপির ডিও লেটারে মাদরাসা সভাপতি হলেন জামায়াতের সাবেক আমির!

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

২৬ জুন, ২০২২ ১৭:১৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এমপির ডিও লেটারে মাদরাসা সভাপতি হলেন জামায়াতের সাবেক আমির!

কক্সবাজারের উখিয়ার একটি মাদরাসার শিক্ষক এবং পরিচালনা কমিটির ১২ সদস্য মিলে সভাপতি হিসেবে মনোনয়নের জন্য নাম প্রস্তাব পাঠানো হয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) শিক্ষা ও আইটির নাম। কিন্তু ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াতের রুকন ও উখিয়া উপজেলা শাখার সাবেক আমির সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে। যার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির ২৬ একর জমির বার্ষিক আয়সহ কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং এমদাদুল উলুম ফাজিল মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ কে এম আবুল হাসান আলীকে আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক দেওয়া এই নিয়োগ প্রদানকে অবৈধ দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকগণ।

বিজ্ঞাপন

তাদের (শিক্ষক) প্রশ্ন―বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একজন সরকারি কর্মকর্তার প্রস্তাবিত নাম বাদ দিয়ে জামায়াতের মতো স্বাধীনতাবিরোধী একটি রাজনৈতিক দলের একজন রুকন সদস্যকে কিভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনয়ন দেয়?

আজ রবিবার সকালে কক্সবাজার শহরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাদরাসাটির শিক্ষকগণ জানান, অবৈধভাবে স্মারক নম্বর জালিয়াতি করে উখিয়া উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির এবং রুকন সদস্য আবুল হাসান আলী সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি।  

এ বিষয়ে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) আহসানুল্লাহ সাঈদের বক্তব্য জানতে কালের কণ্ঠর তরফে তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে তাকে খুদে বার্তা দিয়েও কোনো জবাব মেলেনি।

তবে সদ্য মনোনীত সভাপতি এবং মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ কে এম আবুল হাসান আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাকে সভাপতি মনোনয়ন দেওয়ার জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি শাহীন আক্তারের ডিও লেটার রয়েছে। সেই ডিও লেটারের অনুবলেই আমাকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সভাপতি মনোনয়ন দিয়েছে। ’

জামায়াতের রুকন সদস্য এ কে এম আবুল হাসান আলীকে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনয়নের জন্য দেওয়া এমপি শাহীন আক্তারের গত ১২ মে তারিখের ২২৫ নম্বরের ডিওতে তার (জামায়াত রুকন) কোনো রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। বরং জামায়াত নেতাকে ‘শিক্ষানুরাগী, সমাজহিতৈষী ও দানবীর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এমপি শাহীন আক্তারেরও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সদ্য মনোনীত সভাপতি, মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও জামায়াত রুকন সদস্য এ কে এম আবুল হাসান আলী দাবি করেন, তিনি জামায়াতের রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছেন অনেক আগেই। তবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা ওই মাদরাসার শিক্ষক ও উখিয়া উপজেলা জামায়াতের বর্তমান আমির মওলানা আবুল ফজল সাংবাদিকদের প্রশ্নর জবাবে জানান―এ কে এম আবুল হাসান আলী দফায় দফায় ৮/১০ বছর একটানা উখিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির ছিলেন। ’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য প্রদানকালে প্রতিষ্ঠানটির সহকারী অধ্যাপক মুহিব উল্লাহ জানান, নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি সভাপতি হিসেবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইটিকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু ওই আবেদনের স্মারকমূলে দেওয়া হয় সাবেক অধ্যক্ষ ও জামায়াত নেতাকে। এ মনোনয়ন অবৈধ বলে বাতিলের দাবি জানানো হয়। তিনি জানান, টানা ৩২ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ থাকাকালে আবুল হাসান আলী নানা অনিয়ম এবং অর্থ আত্মসাতে জড়িত ছিলেন।  

শুধু তার দায়িত্ব পালনের শেষ ৯ বছরে দুই কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে। তাই অবসরে যাওয়ার পর পর আবারও জালিয়াতি করে সভাপতি হওয়ার মিশন নিয়েছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটি ২৭ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে ২৩ জন উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবদুল হক, সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ হাশেম, মো. মাহমুদুল হক, সহকারী শিক্ষক মোস্তাক আহমদ প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা