kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

মান্দায় ভুল অস্ত্রোপচারে প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি    

২৬ জুন, ২০২২ ১৫:০৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মান্দায় ভুল অস্ত্রোপচারে প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ

নওগাঁর মান্দায় ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার প্রসাদপুর বাজারের ফয়সাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দুপুর আড়াইটার দিকে তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। পরে রামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মারা যান ওই প্রসূতি।

বিজ্ঞাপন

 

মৃতের নাম আকলিমা বেগম (৩২)। তিনি নুরুল্লাবাদ ইউনিয়নের জোতবাজার এলাকার আব্দুল মান্নান ওরফে মান্নুর স্ত্রী। আকলিমা বেগমের আগে পর পর দু'বার সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম দেন। তৃতীয় সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে ফয়সাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল।  

প্রসূতি আকলিমা বেগমের ভাতিজা মাহাবুর রহমান সুমন বলেন, চাচির প্রসবব্যথা শুরু হলে সিজারিয়ানের জন্য শনিবার বেলা ১১টার দিকে ফয়সাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে অপারেশনের মাধ্যমে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি।  

মাহাবুর রহমান সুমন আরও বলেন, অপারেশনের পর রোগীর রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়নি। ক্রমেই তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এ অবস্থায় বিকেল ৫টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি মারা যান।

রোগীর আরেক স্বজন কছিম উদ্দিন অভিযোগ, অপারেশনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও অবেদনবিদ ছাড়াই ক্লিনিক মালিক জিয়াউর রহমান জিয়া ডাক্তার না হয়েও নিজেই অস্ত্রোপচার করেন। এতে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু ঘটে। ঘটনায় ক্লিনিক মালিক জিয়ার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।

ক্লিনিক মালিক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, হাবিবুল হাসান নামে একজন চিকিৎসক দিয়ে আকলিমা বেগমের অপারেশন করা হয়েছে। সেখানে অবেদনবিদ ছিলেন না বলেও স্বীকার করেন তিনি।  

এ বিষয়ে অস্ত্রোপচারে অংশ নেওয়া চিকিৎসক এসএম হাবিবুল হাসানের মোবাইলফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।  

এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বিজয় কুমার রায় বলেন, বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ক্লিনিক মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়ে তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে একজন কর্মকর্তা পাঠানো হয়েছে। পরবর্তিতে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা