kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

উপজেলা আ. লীগ সাধারণ সম্পাদকের ওপর ভাইস চেয়ারম্যানের হামলা

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি    

২৬ জুন, ২০২২ ১২:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উপজেলা আ. লীগ সাধারণ সম্পাদকের ওপর ভাইস চেয়ারম্যানের হামলা

হামলায় আহত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফুল কবীর।

পাবনার ফরিদপুরে পূর্ববিরোধের জেরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফুল কবীরকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফরিদপুর বাজারের দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম কুদ্দুস ও তার ছেলে রাতুলসহ (৩০) ১০-১২ জন যুবক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।  

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ চলছে।

বিজ্ঞাপন

এক সপ্তাহ আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও পৌর মেয়র খ ম কামরুজ্জামান মাজেদ সাময়িক বরখাস্ত হন। এর পর থেকেই উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে শনিবার রাতে শহরের মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। রাত সাড়ে ৯টার দিকে মঞ্চের পাশে দলীয় কার্যালয়ের সামনে একটি চায়ের দোকানে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম চা খেতে বসেন।  

এ সময় আজিজুল ইসলাম থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট পরে থাকায় তার সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগ নেতা আলী আশরাফুল কবীর। এই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে একপর্যায়ে আলী আশরাফুল কবীর ও নুরুল ইসলাম কুদ্দুসের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই নুরুল ইসলামের নির্দেশে তার ছেলে রাতুলসহ ১০-১২ জন যুবক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলা চালায়। এ হামলায় আশরাফুল কবীরের মাথায় মারাত্মক জখম হয়। পরে পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মীরা এসে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় আহতকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। তার মাথায় অন্তত ৬টি সেলাই করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, আলী আশরাফুল কবীর সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। পরে ২০১৩ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভোটে সাধারণ সম্পাদক পদে হেরে যান নুরুল ইসলাম কুদ্দুস। এরপর গত বছর সম্মেলনেও আবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন আলী আশরাফুল কবীর।

এদিকে এ ঘটনায় আলী আশরাফুল কবীর ফরিদপুর থানায় মৌখিক অভিযোগ করলেও আজ রবিবার সকাল পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা না হওয়ায় কাউকে আটক করেনি বলে জানিয়েছে থানা প্রশাসন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম বলেন, ওই সময় আমাকে নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। কিন্তু এত বড় ধরনের মারধরের ঘটনা পূর্ববিরোধের জেরে হয়েছে বলে আমার মনে হয়।

আলী আশরাফুল কবীর বলেন, এর আগে ২০১৩ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আমার কাছে হেরে নুরুল ইসলাম কুদ্দুস আমার ওপর হামলা চালায়। এবার আমাকে হত্যা করতে আবারও হামলা চালায়।  

অভিযোগের বিষয়ে নুরুল ইসলাম কুদ্দুস বলেন, আশরাফুল কবীর আগে আমার কলার ধরে অপমান করে। পরে আমার লোকজন তার ওপর পাল্টাহামলা করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ নেতার ওপর হামলার ঘটনাটি পুলিশ জেনেছে। তবে এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। তাই পরবর্তী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 



সাতদিনের সেরা