kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

‘পানি নামার বাদে ঘর টিক কিলা করতাম’

বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি   

২৬ জুন, ২০২২ ১০:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘পানি নামার বাদে ঘর টিক কিলা করতাম’

ঘর টিক করার টেখা কে দিব? এখন তো সবে চাউল, ডাইল, তেল দিরা কেউ রান্দিয়া খানি দিরা তিন ওক্ত। চিন্তার মাঝে আছি পানি নামার পরে বউ, পুয়া, পুড়ি লইয়া ঘরও কিলা থাকতাম। আমার এখন সব থাকি বড় চিন্তা, পানি নামার বাদে ঘর টিক কিলা করতাম কার কাছে টেখার লাগি যাইতাম। কেউরর কাছে টেখা নাই।

বিজ্ঞাপন

 

কথাগুলো বলছিলেন সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের জালাল নগর গ্রামের জহুর উদ্দিন (৫৫)। পেশায় তিনি দিনমজুর। মানুষের বাড়ি বাড়ি দিনমজুরের কাজ করে তার পরিবার চলে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে চারখাই ইউনিয়েনর সকল গ্রাম। তাই কাজ নেই তার। ৫ দিন থেকে পরিবারকে নিয়ে উঠেছেন চারখাই উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে। তবে রাতের বেলা ঘরের বারান্দায় নৌকা বেঁধে নৌকায় রাত কাটান তিনি। ৬ জনের পরিবার নিয়ে বন্যার পানি নেমে যাবার পর কোথায় উঠবেন তিনি সে চিন্তায় দিন পার করছেন।
 
গতকাল শনিবার সরেজমিনে উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের জালাল নগর গ্রামে নৌকায় করে জহুর উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঘরে বুক সমান পানি উঠে যাবার কারণে ৪ দিন থেকে পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। ঘরের সব আসবাব পত্র নষ্ট হচ্ছে পানিতে। যা পেরেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়েছেন। আর যা নিতে পারেননি তা পানিতে নষ্ট হচ্ছে।

কথা হয় একই গ্রামের আবু বক্করের (৫০) সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি নিজে একজন রুজ কামলা। মানুষর বাড়িত কাম করি পারিবার চালাই। ১১ জন ওর পরিবারও আমি একমাত্র রুজগারি। ১ মাস থাকি রুজি নাই। এলাকার মানুষর সাইয্যে চলিয়ার। আমার বাইচ্চাইন সব ছোট ছোট। পানি এ ঘর নষ্ট ওই যার কিলা টিক করতাম জানি না।  

নৌকা নিয়ে জালার নগর দিয়ে যেতে ঘরের জানা থেকে কথা বলতে আগ্রহ প্রকাশ করলেন আফিয়া বেগম (৫৫)। জানান, তার ঘরের ভেতর কোমর পানি। তাই বাঁশ দিয়ে মাচা বানিয়ে আছেন ঘরের ভেতরে। ত্রাণ পেলে রান্না করে খেতে পারেন। আর কেউ কিছু না দিয়ে গেলে উপস থাকতে হয়। এছাড়া আরো কোনো উপায় নেই তার।   

একই এলাকার বাসিন্দা ও ছাত্রলীগ নেতা জুনেদ আহমদ বলেন, আমরা সাধ্যমত বানবাসী মানুষকে সহায়তা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা যা বিতরণ করছি তাতে কিছুই হচ্ছে না। যারা আশ্রয় কেন্দ্রে ওঠেনি তাদের কাছে নৌকায় করে আমরা ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের আরো ত্রাণের প্রয়োজন।  

চারখাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুসেন মুরাদ চৌধুরী বলেন, বন্যায় আমার ইউনিয়নের প্রায় সকল গ্রামের পানি উঠেছে। চারখাই উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দে লোকে ঠাসা। নতুন নতুন পরিবার আসছে। তাদের কোথায় জায়গা দেবো চিন্তায় আছি। আমার ইউনিয়নের এখনো প্রচুর ত্রাণের প্রয়োজন।  



সাতদিনের সেরা