kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আগস্ট ২০২২ । ৪ ভাদ্র ১৪২৯ । ২০ মহররম ১৪৪৪

'ঘর ডুবছে এইহানেও ভাঙতাছে, আমরা অহন কই যামু?'

শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি    

২৫ জুন, ২০২২ ১৪:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'ঘর ডুবছে এইহানেও ভাঙতাছে, আমরা অহন কই যামু?'

নদীর পানিতে ঘর ডুবছে। এইহানে থাহি। এডাও ভাঙতাছে। আমরা অহন কই যামু?  কথাগুলো বলছিলেন শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষিমারি ইউনিয়নের কুলুরচর বেপারীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আজগর আলীর স্ত্রী মধু বেগম।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, তিনডা মাইয়া। দুইডা পোলা। দুই সপ্তাহ অইলো। এক বেলা খাইলে দুই বেলাই নাই। পোলাপান নিয়ে ম্যালা কষ্টে আছি।  

তার মতোই বন্যার কারণে বাড়িঘর ফেলে এখানে আশ্রয় নিয়েছেন নববধূ সালমা খাতুন। তিনি বলেন, আমগোরে দেইখা কেউ বিশ্বাস করে না কষ্টে আছি। এইহানে প্রস্রাব পায়খানার জায়গা নাই। আত অইলে গাছের নিচে থাহি। রাস্তাঘাট ডুইবা গেছে। কারো কাছে কিছু পাওন যায় না। আন্নাবান্না করতে পাই না। খাওনের পানিডাও ঠিকমতো পাই না। পোলাপনগরে ডায়রিয়া অইতাছে।  

একই গ্রামের বাসিন্দা দিলনাহার বেগম, বাসিন্দা বাবুল মিয়া, পারভিন আক্তার, মনিজা বেগম, আলী হোসেনসহ বেপারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া বানভাসিরা জানান, বন্যার কারণে তারা ঘরবাড়ি ফেলে এখানে এসেছেন। এই স্কুলটির ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। ফলে এদের অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন আশপাশের বাড়িতে। এখানকার ঘরগুলোও ঝুপড়ির মতো। ফলে এই গ্রামের বাঁধে আশ্রয় নেওয়া শতাধিক লোকসহ বন্যাকবলিতরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। আজ শনিবার সরেজমিন গেলে বন্যায় ডুবে যাওয়া বাড়িঘর ফেলে আসা লোকজন, বন্যার্ত এলাকা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে উঠে আসে এমন তথ্য।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জাফর মিয়া জানান, দুই সপ্তাহ আগে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে চরপক্ষিমারি ইউনিয়নের বেপারীপাড়া গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে পানিতে ডুবে যায় বাড়িঘর ও ফসলের মাঠ। পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় তিন হাজার পরিবার। এর মধ্যে পানিতে ডুবে যায় শতাধিক বাড়িঘর।

এসব বাড়ির লোকজন আশ্রয় নেয় একই গ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে। কয়েক দিন যাবৎ এখানেও দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। এ ছাড়া এখানে আশ্রয় নেওয়া শতাধিক পরিবার অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। চরপক্ষিমারি ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য হালিমা খাতুন বলেন, বেপারীপাড়া গ্রামে সাড়ে তিন হাজার পরিবার। সবাই এখন বানভাসি।   তাদের মধ্যে প্রায় এক শ পরিবার এখানে এসেছে। দুই সপ্তাহ ধরে কষ্টে দিন পার করছে তারা। এখন পর্যন্ত তাদেরকে কোনো ত্রাণ দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, আমরা প্রশাসনকে এখানকার দুরবস্থার কথা বলেছি। কিন্তু এখনো কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি। আমরা এসব দুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা চাই।  

বর্তমান ইউপি সদস্য ইমরান হোসেন বলেন, এখানকার দুর্ভোগের কথা চেয়ারম্যান ও প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। অথচ কেউ পরিদর্শন করেনি। তাদের দাবি, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজন ত্রাণসামগ্রী ও জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া প্রয়োজন।



সাতদিনের সেরা