kalerkantho

শনিবার । ২ জুলাই ২০২২ । ১৮ আষাঢ় ১৪২৯ । ২ জিলহজ ১৪৪৩

বন্যায় বাড়ল ডিঙি নৌকার কদর, ব্যস্ত কারিগররা

মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি   

২১ জুন, ২০২২ ২০:২০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বন্যায় বাড়ল ডিঙি নৌকার কদর, ব্যস্ত কারিগররা

মদনে ডিঙি নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কারিগররা। ছবিটি মঙ্গলবার বিকেলে পৌর ভবনের সামনে থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

চারদিকে থৈ থৈ করছে বন্যার পানি। ঘর থেকে বের হতে একমাত্র ভরসা নৌকা। ডিঙি নৌকা চলাচলের একমাত্র বাহন হয়ে দাঁড়িয়েছে নেত্রকোনার মদন উপজেলায়। প্রয়োজন ও চাহিদার কারণে উপজেলায় ডিঙি নৌকা বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।

বিজ্ঞাপন

দম ফেলার সময় পাচ্ছেন না তারা। বিক্রিও হচ্ছে চড়া দামে। বাধ্য হয়েই বেশি দামে নৌকা কিনছেন ভুক্তভোগীরা।

নেত্রকোনার মদন উপজেলা হাওর এলাকা হওয়ায় বছরে ছয় মাস স্থল আর ছয় মাস থাকে জল। তাই এই এলাকায় নৌকার ব্যবহার দীর্ঘদিনের। অসংখ্য নদ-নদী, খাল-বিল থাকায় সারা বছরেই নৌকা ব্যবহার করেন এসব এলকার লোকজন। যারা নৌকা ব্যবহার করে থাকেন তারা বর্ষা শুরুর আগেই তা তৈরি করে নেন। কিন্তু এ বছর বন্যা পানি চলে আসায় যাতায়াতের সুবিধার্থে ডিঙি নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কারিগররা।

মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে, বন্যার পানিতে ঘরবন্দি আছেন গ্রামের কৃষক পরিবারগুলো। যেখানে একটু উচুঁ স্থান রয়েছে সেখানেই শোনা যাচ্ছে হাতুরি-বাটালের ঠুসঠাস শব্দ। একই স্থানে চলছে ৩/৪টি নৌকা তৈরির কাজ। অনেকইে আবার নৌকার তৈরির বায়না করতে বসে আছেন কারিগরদের কাছে। কয়েকজন কারিগর আবার একত্রে নৌকা তৈরি করে বিক্রি করছেন। ছোট বড় এক একটি নৌকা বিক্রি হচ্ছে পাঁচ থেকে আট হাজার টাকায়।

নৌকার কারিগার তিয়শ্রী ইউনিয়নের বাগজান গ্রামের ধনাই মিয়া বলেন, ‘বন্যা পানি বসত ঘরের পাশে। ঘর থেকে বের হতেই নৌকার প্রয়োজন। চার দিন যাবত ছেলে-মেয়েরা বের হতে পারছে না। তাই চলাফেরার জন্য নৌকা তৈরি করছি। খচর একটু বেশি হচ্ছে। চলাচলের জন্য নৌকা ছাড়া উপায় নাই। তাই খরচ বেশি হলেও ডিঙি নৌকা তৈরি করতেই হবে। ’

পৌর সদরের নৌকার কারিগর স্বাধীন মিয়া বলেন, ‘বন্যার পানির জন্য কেউ চলাচল করতে পারছে না। তাই সবাই নৌকা কিনতে চাইছে। আমরা কয়েকজন কারিগর এক সঙ্গে কাজ করছি। ৫০টির মতো ডিঙি নৌকা বিক্রি করেছি। ৫ থেকে ৭ হাজার টাকায় একটি নৌকা বিক্রি করা হচ্ছে। লোকজনে চাহিদা বেশি তাই আমারা এখন দম ফেলার সময় পাচ্ছি না। ’

নৌকা কিনতে আসা পরশখিলা গ্রামের আলী আহম্মদ জানান, বন্যার পানিতে জন্য রাস্তাঘাট সব ডুবে গেছে। ঘর থেকে বের হলেই নৌকার প্রয়োজন হয়। তাই নৌকা কিনতে এলাম। যে নৌকা আগে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হত সেই নৌকাটি এখন পাঁচ হাজার টাকা। নৌকার চাহিদা বেশী থাকায় কিছু করার নাই।



সাতদিনের সেরা